Table of Contents
ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা! তবে সবকটি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, এমনটাই দাবি ওয়াশিংটনের। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আচমকা হামলার উদ্দেশ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ছুড়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছনোর আগেই প্রতিহত করে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে পারেনি বলে দাবি মার্কিন সেনার।
লক্ষ্য কি জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি?
ঠিক কোন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তা সেন্টকম প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ঘাঁটিতে পৌঁছনোর আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলিকে ধ্বংস করে দেয়।
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
কেন ফের উত্তপ্ত ইরান-আমেরিকা?
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলিও মার্কিন সেনাঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্বার্থে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
সেই আবহে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবু বাড়ছে উদ্বেগ
এবারের ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো ঘটনা দুই দেশের সংঘাতকে আরও সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনও হামলার বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যেই এই নতুন ঘটনা সামনে এল। ফলে ক্ষিপ্রগতিতে বদলাতে থাকা পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কার—ওয়াশিংটন না তেহরান—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।