খবর

খনিজে রাজ্যের কর বসানোর অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রের সংশোধনের বিরুদ্ধে জেএমএম-কংগ্রেস

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: খনিজসম্পদের উপর রাজ্যের কর ও উপকর আরোপের অধিকার সীমিত করতে কেন্দ্রের আনা খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের তীব্র বিরোধিতা করল…
  • দুই দলের অভিযোগ, সংশোধিত আইন কার্যকর হলে খনিজসমৃদ্ধ ঝাড়খণ্ডের রাজস্ব বিপুল ভাবে কমবে।
  • একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: খনিজসম্পদের উপর রাজ্যের কর ও উপকর আরোপের অধিকার সীমিত করতে কেন্দ্রের আনা খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের তীব্র বিরোধিতা করল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেস। দুই দলের অভিযোগ, সংশোধিত আইন কার্যকর হলে খনিজসমৃদ্ধ ঝাড়খণ্ডের রাজস্ব বিপুল ভাবে কমবে। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

লোকসভায় কার্যত আলোচনা ছাড়াই খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাশ হয়। রাজ্যসভাতেও বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি খারিজ করে ধ্বনিভোটে তা অনুমোদন করা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজ্যে খনিজের উপর পৃথক হারে কর ও উপকর চালু থাকায় দেশে খনিজক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। অভিন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সংশোধনের উদ্দেশ্য। কিন্তু জেএমএম এবং কংগ্রেসের মতে, এর আড়ালে রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ২৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে জানিয়েছিল, খনিজের রয়্যালটি কর নয় এবং খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর কর বসানোর ক্ষমতা রাজ্যগুলির রয়েছে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ২০২৪ সালের ২ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ‘ঝাড়খণ্ড খনিজসমৃদ্ধ জমি উপকর বিল’ পাশ করে। কয়লা, লৌহ আকরিক, বক্সাইট, ইউরেনিয়াম-সহ বিভিন্ন খনিজের উপর প্রতি মেট্রিক টন হিসাবে পৃথক হারে উপকর আরোপ করা হয়। পরের বছর উপকরের হার সর্বোচ্চ চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

ঝাড়খণ্ড সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাত থেকে ১৪,৬৫৬ কোটি টাকা আয়ের হিসাব ধরেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকা ‘মুখ্যমন্ত্রী মাইয়া সম্মান যোজনা’র জন্য ব্যয় করার কথা। এই প্রকল্পে প্রায় ৫১ লক্ষ মহিলাকে মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হয়। জেএমএমের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় সংশোধনের ফলে এই রাজস্ব বন্ধ হলে নারী সহায়তা, আবাসন, পেনশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্প চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সংশোধনীটিকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “খনিজ ঝাড়খণ্ডের, জমিও ঝাড়খণ্ডের—তা হলে আমাদের অধিকার দিল্লি নির্ধারণ করবে কেন?” আইন প্রত্যাহার করা না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

কংগ্রেসও সংশোধনীটিকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে। দলের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ডের মাটি থেকে খনিজ তুলে দেশের শিল্পায়ন হলেও তার পরিবেশগত ক্ষতি, বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা হারানোর বোঝা বহন করেন স্থানীয় মানুষ—বিশেষত আদিবাসীরা। অথচ সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহের ক্ষমতাই রাজ্যের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে খনিজ আইন নিয়ে কেন্দ্র ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সংঘাত এখন সংসদের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে এগোচ্ছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles