International

কুরিলে পুতিন, ক্ষুব্ধ জাপান

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আট দশক পরও কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের পুরনো বিরোধে নতুন করে আগুন জ্বলল।
  • বৃহস্পতিবার বিতর্কিত ইতুরুপ দ্বীপে পা রাখলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
  • পুতিনের দীর্ঘ শাসনকালে এই প্রথম জাপানের দাবিকৃত কোনও কুরিল দ্বীপে পা রাখলেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আট দশক পরও কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের পুরনো বিরোধে নতুন করে আগুন জ্বলল। বৃহস্পতিবার বিতর্কিত ইতুরুপ দ্বীপে পা রাখলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর সফর ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও। পুতিনের দীর্ঘ শাসনকালে এই প্রথম জাপানের দাবিকৃত কোনও কুরিল দ্বীপে পা রাখলেন তিনি।

রাশিয়ার কাছে দ্বীপটির নাম ইতুরুপ, জাপানের কাছে এতোরোফু। সফরে সেখানে একটি মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, হাসপাতাল এবং বিদ্যালয় ঘুরে দেখেন পুতিন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সাখালিন অঞ্চলের গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কোর সঙ্গেও বৈঠক করেন। বাইরে থেকে এটি প্রশাসনিক সফর মনে হলেও দ্বীপটির বিতর্কিত অবস্থানের কারণে মুহূর্তেই তা কূটনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পুতিনের সফরকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই সফর জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড নিয়ে টোকিওর অবস্থানের সরাসরি বিরোধী।

জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাই নোজদ্রেভকে ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানান। টোকিওর বক্তব্য, ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক আইন—দুই দিক থেকেই এতোরোফুসহ চারটি দ্বীপ জাপানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদন

মস্কো অবশ্য জাপানের আপত্তি উড়িয়ে দিয়েছে। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশের কোন অঞ্চলে যাবেন, সেটি সম্পূর্ণভাবে রুশ নেতৃত্বের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

রাশিয়ার দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতেই কুরিল দ্বীপগুলির উপর তাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৮০ বছর ধরে জিইয়ে থাকা বিরোধ

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কুনাশির, ইতুরুপ, শিকোটান এবং হাবোমাই দ্বীপগুচ্ছ। জাপান এগুলিকে সম্মিলিতভাবে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে। ১৯৪৫ সালে জাপানের আত্মসমর্পণের ঠিক আগে সোভিয়েত বাহিনী দ্বীপগুলি দখল করে নেয়। পরে সেখানকার প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তার পর থেকে দ্বীপগুলি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিজেদের দাবি থেকে সরে আসেনি জাপান। এই ভূখণ্ড-বিরোধের জেরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া ও জাপান এখনও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি।

প্রাক্তন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পুতিনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান এবং মস্কোর বিরুদ্ধে জাপানের নিষেধাজ্ঞার পর সেই আলোচনা কার্যত থমকে যায়।

দ্বীপগুলির গুরুত্ব কেন এত বেশি?

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের গুরুত্ব শুধু ইতিহাস বা জাতীয়তাবাদে সীমাবদ্ধ নয়। অঞ্চলটি সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এখানকার সমুদ্র মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ।

রাশিয়া ইতিমধ্যেই সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র-সহ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ফলে পুতিনের সফরকে নিছক স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন হিসেবে দেখছে না টোকিও। বরং জাপানের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ভূখণ্ডে রুশ প্রেসিডেন্টের পা রাখা মস্কোর তরফে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন

আট দশক পেরিয়েও যে বিরোধের সমাধান হয়নি, পুতিনের এই সফর সেটিকেই ফের আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে তুলে আনল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles