বাংলাস্ফিয়ার: পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের আবহে কেন্দ্র সরকার একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমাধানের পথ এখনও অধরাই থেকে গেছে।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের অবস্থান সংঘাত নয়, সংলাপ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এবং যেকোনও গঠনমূলক প্রস্তাব বিবেচনা করতে সরকার প্রস্তুত। সরকারের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং কঠোর আইন আনার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।
তবে সিজেপির বক্তব্য, কেবল আশ্বাসে আর আস্থা নেই। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ অনশনের পর তা প্রত্যাহার করলেও ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবিগুলি থেকে সরে আসেননি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন সরকার তাদের মূল দাবিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। শুধু বৈঠক ডেকে সময়ক্ষেপণ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও একই সুরে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ পওয়ার) সহ একাধিক দল অভিযোগ করেছে, ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তাই তাঁর পদত্যাগই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ।
সংসদের চলতি অধিবেশনেও এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে বিরোধীরা। উভয় কক্ষেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, স্থগিতাদেশ প্রস্তাব এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাব দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার আন্দোলনের রাজনৈতিক দিক তুলে ধরে মূল সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
সরকার অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কেন্দ্রের বক্তব্য, পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নতুন আইন, দ্রুত বিচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকার মনে করছে, সমস্যার সমাধান প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভব, ব্যক্তিবদলের মাধ্যমে নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান যথেষ্ট। সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে, কিন্তু আন্দোলনকারীরা আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে। ফলে আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক আলোচনার ওপর। সরকার যদি সংস্কারের রূপরেখা আরও স্পষ্ট করে এবং আন্দোলনকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারে, তবে সংলাপের পথ কিছুটা প্রশস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান অব্যাহত থাকলে আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।