বাংলাস্ফিয়ার: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ উঠে এল শাসকদলেরই এক বিধায়ক এবং এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের শীর্ষস্তরকে নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিকে আরও সক্রিয় করেছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। জমি দখল, দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সব ধরনের বিষয়ই এখানে শুনছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবারের জনতার দরবারে কয়েকটি অভিযোগ বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নজর কাড়ে। অভিযোগকারীদের একাংশ দাবি করেন, এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটানো এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, ভয় দেখানো এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কোনও অভিযোগের বিচার করা হবে না। অভিযোগ সত্য হলে আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দফতর যৌথভাবে তদন্ত করবে। অভিযোগকারীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত নথি বা প্রমাণ সংগ্রহ করা হতে পারে।
জনতার দরবারে উপস্থিত একাধিক মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ অভিযোগ করেন জমির রেকর্ড সংশোধন না হওয়ার, কেউ বা সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার। কয়েকটি ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত না করার অভিযোগও ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজের দলের জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে সরকার।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, শুধু তদন্তের আশ্বাস দিলেই হবে না, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন তদন্তের স্তরে আটকে থেকেছে। তাই এই ক্ষেত্রেও তদন্ত কত দ্রুত শেষ হয় এবং তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনতার দরবারের মতো উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে অভিযোগের নিষ্পত্তির উপর। সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে পারলেও, তার ফল যদি বাস্তবে না মেলে, তবে এই উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। আবার দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়তে পারে।
রাজ্য সরকারের দাবি, জনতার দরবারের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বহু পুরনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বিভিন্ন দফতরের কাজের গতি বেড়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে, বিজেপি বিধায়ক এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয়, সেটাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের প্রধান নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।