‘ইরানকে ভয়?’ ট্রাম্পকে খোঁচা তেহরানের

যা জানা জরুরি
- ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- সেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ট্রাম্পকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম।
- তেহরানের দাবি, ঘটনাটি নাকি প্রমাণ করে দিয়েছে—ইরানের সামরিক শক্তিকে ওয়াশিংটন কতটা ভয় পায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ট্রাম্পকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। তেহরানের দাবি, ঘটনাটি নাকি প্রমাণ করে দিয়েছে—ইরানের সামরিক শক্তিকে ওয়াশিংটন কতটা ভয় পায়।
ইরানের সরকারি টেলিভিশনের এক সঞ্চালক দাবি করেন, ট্রাম্প ফের আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন একটি ‘কেলেঙ্কারি’র কারণে। তাঁর বক্তব্য, এর নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক শক্তির ভয়। সেই কারণেই গত মাসে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে গোপনে বিমান বদল করতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ইরানি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ‘অপমানজনক’ বলেও তুলে ধরেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। ঠিক তখনই মার্কিন নিরাপত্তা কর্তাদের কাছে খবর আসে, বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারায় ট্রাম্প যে হোটেলে ছিলেন, এমনকি তিনি কোন তলায় ছিলেন—সেই তথ্যও ইরানি চরদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস হুমকিটিকে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য এবং আসন্ন বলে মনে করে। এরপর শুরু হয় অত্যন্ত গোপন এক নিরাপত্তা অভিযান।
প্রথমে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে পুরনো নীল-সাদা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন ট্রাম্প। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিমানের অন্য দিকের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। সেখানে অপেক্ষা করছিল একটি খাবার সরবরাহের গাড়ি। সেই গাড়িতে করেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছেই অপেক্ষমাণ অপেক্ষাকৃত ছোট সি-৩২এ সামরিক পরিবহণ বিমানে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, ট্রাম্পের বদলে সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েক জন কর্মীকে নিয়ে পুরনো বিমানটিই ‘ছদ্মবিমান’ হিসেবে উড়ে যায়। তাঁদের অনেকেই জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই অন্য বিমানে চলে গিয়েছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছোট সামরিক বিমানে ছিলেন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। পরে ব্রিটেনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছে ফের প্রকাশ্যে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। ট্রাম্পকে খাবারবাহী গাড়িতে লুকিয়ে পালাতে দেখা যাচ্ছে—এমন একাধিক ব্যঙ্গচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাসও প্রকাশ করেছে একটি ব্যঙ্গচিত্র।
তেহরানের প্রচারের মূল সুর একটাই—ইরানের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা এতটাই প্রবল যে তা নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের নিরাপত্তা পরিকল্পনাও বদলে দিতে বাধ্য করেছে।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, কোনও গুরুতর হুমকির খবর পেলে প্রেসিডেন্টের বিমান পরিবর্তন করা কাপুরুষতার লক্ষণ নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করতেই প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবু রাজনৈতিক প্রচারের ময়দানে ঘটনাটি ইরানের জন্য মোক্ষম অস্ত্র। তেহরান এখন সেই ছবিই তুলে ধরতে চাইছে—যে ইরানের সামরিক শক্তির আশঙ্কা নাকি এতটাই বাস্তব যে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের যাত্রাপথও গোপনে বদলে ফেলতে হয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



