বাংলাস্ফিয়ার: নিজের একান্ত ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত সপ্তাহান্তে প্রকাশ্যেই জানালেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। ৩৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিক তাঁর ডিম্বাণু হিমায়িত করে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো পোস্ট করে ওকাসিও-কর্তেজ জানিয়েছেন, নিজের জীবন সম্পর্কে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। একই সঙ্গে এই ব্যয়বহুল প্রজনন-সহায়ক চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার জন্য অর্থও সঞ্চয় করছিলেন। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই বিমার আওতায় ডিম্বাণু সংরক্ষণের খরচ পাওয়া যায় না।
ওকাসিও-কর্তেজ এমন সময়ে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনলেন, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে গর্ভপাতের সুযোগ এবং প্রজনন-সংক্রান্ত কিছু চিকিৎসা সীমিত করার পদক্ষেপ করছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তিনি আরও উচ্চ রাজনৈতিক পদের জন্য লড়তে পারেন বলেও জল্পনা চলছে।
তবে ওকাসিও-কর্তেজ স্বীকার করেছেন, তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, চাকরির আবেদন হোক বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া—পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের অনেক বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় যে তাঁরা কবে সন্তান নেবেন, আদৌ সন্তান নেবেন কি না।
রবিবার এবিসি-র ‘দিস উইক উইথ জর্জ স্টেফানোপুলোস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘নেতৃত্বের জায়গায় থাকা মানুষ হিসেবে আমাদের এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলা এবং এই প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের কর্মজীবী মহিলাদের কথা মাথায় রেখে এগুলিকে স্বাভাবিক আলোচনার অংশ করে তোলা দরকার।’’
ডিম্বাণু হিমায়িত করে সংরক্ষণ এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মহিলার শরীর থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেই ডিম্বাণু নিষিক্ত করা সম্ভব। নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ তৈরি হওয়ার পরে তা জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট মহিলা গর্ভধারণ করতে পারেন।
বিভিন্ন কারণে মহিলারা ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। যেমন, কেমোথেরাপি বা এমন কোনও চিকিৎসার আগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতে প্রজননক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কোনও শারীরিক সমস্যা নেই, অথচ জীবনের যে সময়ে সন্তান ধারণের জৈবিক সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি, সেই সময়ে সন্তান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন—এমন বহু মহিলাও এখন ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন।
২০২৫ সালে ইউসিএলএ-র একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পরিকল্পিত ভাবে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে মহিলারা আগের তুলনায় কম বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করতে শুরু করেছেন। ২০১৪ সালে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মহিলাদের গড় বয়স ছিল ৩৬ বছর। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৪.৯ বছর।
তবে গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তথ্যও উঠে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে যাঁরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন, তাঁদের মাত্র ৫.৭ শতাংশ পরবর্তী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে সেই সংরক্ষিত ডিম্বাণু ব্যবহার করতে ফিরে এসেছিলেন।
নিজের ভিডিয়োয় ওকাসিও-কর্তেজ এই চিকিৎসার জন্য তাঁকে যে বিভিন্ন ওষুধ নিতে হচ্ছে, সেগুলিও দর্শকদের দেখিয়েছেন।
সাধারণত ওষুধ প্রয়োগের এই পর্যায়টি ১০ থেকে ১২ দিন চলে। জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মহিলাদের প্রতিদিন দুই বা তিন ধরনের হরমোনের ইঞ্জেকশন নিজেদেরই নিতে হয়। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং চার থেকে ছ’বার শ্রোণিদেশের আল্ট্রাসাউন্ড করতে হয়।
ডিম্বাণু পরিণত হওয়ার পরে চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি অস্ত্রোপচার-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলি সংগ্রহ করেন। এই সময়ে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়।
ওকাসিও-কর্তেজ নিজেই নিজের পেটে হরমোনের ইঞ্জেকশন নেওয়ার দৃশ্য ভিডিয়োয় ধারণ করেছেন। মজা করে দর্শকদের বলেছেন, ‘‘এটা নিয়ে অদ্ভুত আচরণ করবেন না। যদিও আমি জানি, আপনারা সবাই সেটাই করবেন।’’
ইঞ্জেকশন নেওয়া শেষ হওয়ার পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল সংক্ষিপ্ত—‘‘এতটাও খারাপ ছিল না।’’