এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেট-দিল্লি উড়ানের পাইলট-ইন-কমান্ডের প্রাথমিক পরীক্ষায় মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের উপস্থিতির সম্ভাবনা ধরা পড়েছে। এর পরেই তাঁকে বিস্তারিত ‘ডোপ টেস্ট’-এর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই উড়ানের দুই পাইলটকেই উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)।
ঘটনাটি মঙ্গলবারের। ফুকেট থেকে দিল্লি আসার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনির বা ‘সিভিয়ার টার্বুলেন্স’-এর মধ্যে পড়ে। দিল্লিতে অবতরণের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুই পাইলটের পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রাথমিক পরীক্ষাতেই পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনায় এমন কিছু ধরা পড়ে, যা কোনও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে প্রাথমিক পরীক্ষার ফলকে এখনই চূড়ান্ত বলে ধরা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট পাইলটের নমুনা আরও নির্ভুল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্পষ্ট হবে, তাঁর শরীরে সত্যিই কোনও নিষিদ্ধ বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ ছিল কি না।
‘ফলস পজিটিভ’-এর সম্ভাবনাও আছে
প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিয়ে সতর্ক থাকার অন্যতম কারণ হল ‘ফলস পজিটিভ’। কিছু ওষুধ, খাবার কিংবা অন্যান্য বৈধ পদার্থের প্রভাবে কখনও কখনও পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতির মতো ফল আসতে পারে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি নিষিদ্ধ পদার্থ গ্রহণ না করলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় তার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব।
এই কারণেই প্রাথমিক ফলের পর দ্বিতীয় দফায় আরও নির্ভুল পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত পাইলটকে নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই উড়ানের দুই পাইলটই ‘অফ ডিউটি’ থাকবেন। এটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা—প্রাথমিক পরীক্ষার ফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এয়ার ইন্ডিয়া কী বলছে?
এয়ার ইন্ডিয়ার বক্তব্য, উড়ানের পরে পাইলটদের পরীক্ষায় কী পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে পরীক্ষার ফল নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
ঘটনাটি ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের কঠোর নিয়মকেও ফের সামনে নিয়ে এসেছে। যাত্রীবাহী বিমানের পাইলটদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল বা অন্য কোনও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ গ্রহণের বিষয়ে কড়া বিধি রয়েছে। কারণ, বিমানের ককপিটে সামান্য অসতর্কতাও শত শত যাত্রীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিমানটি তীব্র টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়েছিল বলে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে বিমানে টার্বুলেন্সের ঘটনা এবং প্রাথমিক ডোপ টেস্টের ফলের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
এখন নজর চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে। সেটিতে প্রাথমিক পরীক্ষার ফল সত্যি প্রমাণিত হলে ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী পাইলটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আবার ফল ‘ফলস পজিটিভ’ হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকম হবে।
তাই আপাতত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখাই হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রহস্যের উত্তরও মিলছে না।