প্রথম কিস্তি

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত বড় পদক্ষেপ করল হেমন্ত সোরেন সরকার। আন্দোলনকারীদের একাধিক দাবি মেনে তিনটি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা জেপিএসসি-র তিন সদস্য—অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমদের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার।

তবে এতেও আন্দোলনের ইতি পড়ছে না। আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁদের অধিকাংশ দাবি সরকার মেনে নিলেও জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার ফল বাতিল এবং জেপিএসসি-র সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরীক্ষায় সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আপস করবেন না। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১০ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচিও বহাল রাখা হয়েছে।

রবিবার রাঁচির স্টেট গেস্ট হাউসে দুপুর নাগাদ সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক শুরু হয়। ছাত্র আন্দোলনের দুই প্রধান মঞ্চ—জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ এবং জেপিএসসি-জেএসএসসি অভ্যর্থী ন্যায় মঞ্চ—আলাদা প্রতিনিধিদল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়। তাঁদের পাশাপাশি আইসা-র সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিরাও বৈঠকে ছিলেন।

সরকারের পক্ষে আলোচনায় ছিলেন কারিগরি ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু, দীপিকা পাণ্ডে সিং, সঞ্জয় প্রসাদ যাদব এবং চামরা লিন্ডা। বৈঠকের পরে সুদিব্য দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে

কোন তিনটি পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে

আলোচনার পরে সরকার যে সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তিনটি জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল। এগুলি হল—

১. জেপিএসসি ব্যাকলগ ২০২৩ পরীক্ষা
২. জেপিএসসি ব্যাকলগ ২০২৫ পরীক্ষা
৩. ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, ‘‘আমাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিও সরকার মেনেছে। কিন্তু সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনও আপস করব না। ১০ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা পর্যন্ত আমাদের প্রস্তাবিত মিছিল হবে।’’

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় সরকার জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও প্রস্তাব দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের দাবি, তদন্তের পাশাপাশি পরীক্ষাটিই বাতিল করতে হবে।

সিজিএল নিয়ে অচলাবস্থা

সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রধান বিরোধ এখন জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষাকে ঘিরে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পক্ষে তাঁরা যথেষ্ট প্রমাণ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। ফলে ওই পরীক্ষার ফল বাতিল করা ছাড়া আর কোনও গ্রহণযোগ্য পথ নেই।

অন্য দিকে সরকারের বক্তব্য, সিজিএল পরীক্ষার ফল এখন ইচ্ছামতো বাতিল করা সম্ভব নয়। কারণ, পরীক্ষার প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে সফল পরীক্ষার্থীদের অনেকেই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। যথেষ্ট আইনসঙ্গত কারণ ছাড়া এখন গোটা ফলাফল বাতিল করলে সরকারের সিদ্ধান্ত ফের আদালতের বিচারাধীন হয়ে পড়তে পারে।

সুদিব্য কুমার সোনু সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার একতরফা ভাবে ফল বাতিল করতে পারে না।

ফলে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে তিনটি বিষয়ে এসে ঠেকেছে—সিজিএল পরীক্ষার ফল বাতিল, সিবিআই তদন্ত এবং পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা—লাঠি নয়, সংলাপ

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে ফের আলোচনার বার্তা দিয়েছেন। রবিবার ঝাড়খণ্ড আদিবাসী মহোৎসবে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান হতে পারে সংলাপের মাধ্যমে, ‘লাঠি-ডান্ডা-বন্দুক’ দিয়ে নয়।

সোরেন বলেন, ‘‘সংলাপই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে। লাঠি-ডান্ডা-বন্দুক নয়। অস্ত্র সীমান্তে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।’’

আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি পরীক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হবে। শুধু ন্যায়বিচার করলেই হবে না, মানুষ যেন দেখতে পান যে ন্যায়বিচার হয়েছে।’’

একই সঙ্গে সোরেন অভিযোগ করেন, কিছু ‘স্বার্থান্বেষী শক্তি’ ঝাড়খণ্ডের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের স্বনির্ভর হয়ে ওঠা কিছু শক্তি মেনে নিতে পারছে না। তবে ছাত্রদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ারও আন্দোলনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।

তিন জেপিএসসি সদস্যের পদত্যাগ গৃহীত

এর মধ্যেই আন্দোলনের আবহে জেপিএসসি-তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। লোক ভবনের বিবৃতি অনুযায়ী, কমিশনের তিন সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমদের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল।

সরকারের তিনটি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং একই দিনে কমিশনের তিন সদস্যের ইস্তফা গ্রহণ—দুই ঘটনাই চলতি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের কাছে এটি শেষ নয়। বরং তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষার গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল বা কয়েকজনের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়।

তিনটি জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীদের একটি বড় দাবি পূরণ হলেও ঝাড়খণ্ডের চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনের অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। বরং রবিবারের আলোচনার পরে স্পষ্ট হয়েছে, সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মূল বিরোধ এখন তিনটি প্রশ্নে—জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, তদন্তের ভার সিবিআইকে দেওয়া হবে কি না এবং বেসরকারি পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা টিডিপিএলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরীক্ষার ভবিষ্যৎ কী হবে।

জেপিএসসি-জেএসএসসি অভ্যর্থী ন্যায় মঞ্চের অন্যতম সংগঠক চন্দন রজক জানিয়েছেন, সরকারের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলির অনিয়মের অভিযোগের ফৌজদারি দিক তদন্ত করবে সিআইডি। অন্য দিকে, আর্থিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক অনিয়মের দিকগুলি খতিয়ে দেখবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি

কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি আরও ব্যাপক। তাঁদের বক্তব্য, শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত করলে হবে না। যে বেসরকারি পরীক্ষা পরিচালন সংস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, তার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষা খতিয়ে দেখতে হবে।

টিডিপিএল-কে ঘিরেই নতুন প্রশ্ন

আন্দোলনকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড বা টিডিপিএল। বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এই বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছেন।

চন্দন রজকের বক্তব্য, ‘‘আমরা টিডিপিএল পরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানিয়েছিলাম। সরকার তাতে রাজি হয়নি। তবে আমাদের বলা হয়েছে, অভয় তিওয়ারি এবং টিডিপিএলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পরীক্ষার বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হবে।’’

এই অভয় তিওয়ারিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

অভয় তিওয়ারি ওরফে মনোজ কুমার তিওয়ারি গোড্ডা জেলার একজন ব্লক সাপ্লাই অফিসার। নিয়োগ দুর্নীতির চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগে চলতি মাসের গোড়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি পদে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিওয়ারি একই সঙ্গে টিডিপিএলের বিপণন ব্যবস্থাপক হিসাবেও কাজ করছিলেন। যে বেসরকারি সংস্থা সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, তার সঙ্গে একজন সরকারি আধিকারিকের এই যোগসূত্রই তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

ফলে আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, বিষয়টি যদি শুধুমাত্র কোনও একটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অনিয়মের ঘটনা না হয়ে থাকে এবং পরীক্ষা পরিচালনার গোটা ব্যবস্থার মধ্যেই যদি কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে থাকে, তা হলে টিডিপিএল পরিচালিত অন্য পরীক্ষাগুলিকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

সিজিএল নিয়েই সবচেয়ে বড় সংঘাত

তবে সরকারের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য এখনও জেএসএসসি-কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল বা সিজিএল পরীক্ষা নিয়ে।

চন্দন রজকের দাবি, আন্দোলনকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সিজিএল পরীক্ষা বাতিল চাই। কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্ত প্রমাণ আমরা দিয়েছি।’’

সরকার অবশ্য এই দাবি মানতে নারাজ।

রাজ্যের যুক্তি, ওই পরীক্ষার প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফল প্রকাশের পরে সফল পরীক্ষার্থীদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের পদে যোগ দিয়েছেন। ফলে এখন গোটা পরীক্ষা বা ফলাফল বাতিল করলে সেই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের বক্তব্য, যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি ছাড়া ফল বাতিল করা হলে তা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার মুখে পড়বে।

এই কারণেই বিকল্প হিসাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, যে পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে, সেই পরীক্ষার ফল বহাল রেখে শুধু তদন্তের আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না।

তদন্ত শেষ করার জন্য ৯০ দিনের প্রস্তাব

আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ছাত্র প্রতিনিধিদের দাবি অনুযায়ী, সরকার প্রস্তাব দিয়েছে, আর্থিক ও বিচারবিভাগীয় সমস্ত তদন্তের প্রতিবেদন ৯০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তৈরির দাবিতেও সরকার সম্মত হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।

অর্থাৎ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক দিকে সিআইডি ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত করবে, অন্য দিকে ইডি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। তার পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থাও থাকবে।

কিন্তু আন্দোলনকারীরা সিবিআই তদন্তের দাবিতেই অনড়।

তাঁদের যুক্তি, জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র মতো রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি পরীক্ষা পরিচালন সংস্থার বিরুদ্ধে যখন এত বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে, তখন রাজ্য সরকারের অধীন তদন্তকারী সংস্থার পরিবর্তে স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

পরীক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলের পরিকল্পনা

শুধু বর্তমান বিতর্ক মেটানো নয়, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অভিযোগ না ওঠে, তার জন্যও কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

জেপিএসসি এবং জেএসএসসি-র কাজকর্মের আমূল সংস্কারের জন্য আইআইএম এবং এক্সএলআরআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, ফল প্রকাশ এবং বেসরকারি সংস্থা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন কার্যবিধি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের মতামত সরাসরি সংগ্রহ করার জন্য একটি নতুন পোর্টাল তৈরির কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলিকে আরও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট কার্যবিধি চূড়ান্ত করা হবে।

এই পদক্ষেপগুলিকে সামনে রেখেই উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু দাবি করেছেন, আন্দোলনকারীদের ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে।

তবু কেন আন্দোলন থামছে না

সরকারের দাবি এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থানের মধ্যে ফারাকটি এখানেই।

সরকারের মতে, তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, তদন্তের ব্যবস্থা হচ্ছে, দ্রুত বিচারের জন্য পৃথক আদালতের প্রস্তাব রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার শুরু হচ্ছে। ফলে আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ দাবিই পূরণ হয়েছে।

কিন্তু চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির দুটিই এখনও অধরা—জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং সিবিআই তদন্ত

তাই রবীন্দ্র পাসওয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলন থামছে না।

১০ আগস্ট, সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা পর্যন্ত মিছিলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল থাকবে।

জাইপাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে সংহতি

এ দিকে রাঁচির জাইপাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবসে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু মানুষ সেখানে গিয়ে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ান এবং সংহতি জানান।

এ পর্যন্ত জেপিএসসি পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে

কয়েক দফা আলোচনা, তিনটি পরীক্ষা বাতিল, কমিশনের তিন সদস্যের পদত্যাগ, সিআইডি ও ইডি তদন্তের প্রস্তাব এবং মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস—সব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকার আন্দোলন প্রশমিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু সিজিএল এবং সিবিআই—এই দুই প্রশ্নে সমাধান না হওয়ায় সংঘাতের শেষ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

এখন নজর ১০ আগস্টের বিধানসভা অভিযানের দিকে। সরকারের ‘সংলাপের পথ’ এবং আন্দোলনকারীদের ‘শেষ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই’—এই দুই অবস্থানের মধ্যে পরবর্তী সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে রাঁচির রাজপথ।