Home খবর অস্ত্র ফুরোতেই রাগে ফুঁসছেন ট্রাম্প, ধমক খেলেন হেগসেথ

অস্ত্র ফুরোতেই রাগে ফুঁসছেন ট্রাম্প, ধমক খেলেন হেগসেথ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
21 views 3 minutes read
A+A-
Reset

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের জেরে মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেলেও সে বিষয়ে তাঁকে সময়মতো জানানো হয়নি।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ফাঁকে হেগসেথকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন ট্রাম্প। বৈঠকে উপস্থিত দুই সূত্রের দাবি, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ভেবেছিলেন অস্ত্রসংকটের সমস্যা অনেক আগেই মিটে গেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতি নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সূত্রের দাবি, এই অস্ত্রসংকটই ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযান থেকে ট্রাম্পকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। সোমবার নিজেও ট্রাম্প বলেন, তিনি “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলার” নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে নতুন চুক্তি করেছে, তবু সেগুলি তৈরি হতে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা নেই।

প্রথম এক মাসের যুদ্ধেই মার্কিন বাহিনী ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারেরও বেশি প্যাট্রিয়ট ও THAAD ইন্টারসেপ্টর এবং ১,৩০০টিরও বেশি ATACMS কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অস্ত্রগুলির মজুত এখন কার্যত শেষের পথে।

এই ঘাটতির প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, ইউক্রেন যুদ্ধেও পড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলির হাতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র না থাকায় কিয়েভকে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে রাশিয়ার দূরপাল্লার হামলার মুখে ইউক্রেন আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন প্রতিটি আগত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সেটিকে ভূপাতিত করতে মূল্যবান ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হবে কি না। অর্থাৎ অস্ত্রসংকটের জেরে মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলও বদলাতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে হেগসেথ নিজের দায় অস্বীকার করে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফাইনবার্গের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ফাইনবার্গ ট্রাম্পকে অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত করেননি।

এই ঘটনাকে ট্রাম্প-হেগসেথ সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সীমিত সামরিক অভিযানের অন্যতম জোরালো সমর্থক ছিলেন হেগসেথ। তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছিলেন, এই যুদ্ধ দ্রুত এবং সহজেই জেতা সম্ভব হবে।

তবে হোয়াইট হাউস গোটা প্রতিবেদনই উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও একই সুরে দাবি করেন, হেগসেথ কখনও অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত অবস্থা গোপন করেননি এবং নিজের ডেপুটির ওপরও দোষ চাপাননি। তাঁর কথায়, অস্ত্রসংকট, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ কিংবা ইরান নিয়ে হেগসেথের অবস্থান—সব অভিযোগই “সম্পূর্ণ কাল্পনিক”।

গত জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতেও ইরান যুদ্ধ ও অস্ত্রসংকট নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েন হেগসেথ। তবে প্রেসিডেন্টকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন তিনি। পাশাপাশি অস্ত্রসংকটের জন্য আগের বাইডেন প্রশাসনকেই দায়ী করেন।

এদিকে হেগসেথ, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফাইনবার্গ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কংগ্রেসের কাছে ইরান যুদ্ধের খরচ এবং অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের জন্য অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছেন।

কিন্তু রিপাবলিকানদের মধ্যেই এই বরাদ্দ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেটও ডেমোক্র্যাটদের আপত্তিতে আটকে আছে। ফলে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত পুনর্গঠনের পথ আপাতত অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, এর আগেও ‘সিগন্যালগেট’ বিতর্কে গোপন সামরিক তথ্য ভুল চ্যাট গ্রুপে পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হেগসেথ। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের আস্থা তিনি কতদিন ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। যদিও প্রকাশ্যে ট্রাম্প এখনও তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশেই রয়েছেন।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles