নিরাপদে হাঁটা মৌলিক অধিকার, জানাল শীর্ষ আদালত; কেন্দ্র-রাজ্যকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দেশের সব সড়কে পথচারীদের জন্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত, নিরাপদ ও দখলমুক্ত ফুটপাথ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিরাপদে হাঁটার অধিকার সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জীবনের অধিকারেরই অংশ। তাই নগর পরিকল্পনা, সড়ক নির্মাণ ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় পথচারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই নির্দেশ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের অধিকাংশ শহরে ফুটপাথ দখল, অবৈধ পার্কিং, দোকানপাটের অনুপ্রবেশ এবং পরিকল্পনাহীন নির্মাণের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটছেন। এর ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রতিটি সড়কে পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই অংশ কোনওভাবেই যানবাহনের চলাচলের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে না।
এর আগে জুন মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে শীর্ষ আদালত ঘোষণা করেছিল, নির্দিষ্ট ফুটপাথে নিরাপদে হাঁটার অধিকার মৌলিক অধিকার। এবার সেই রায় কার্যকর করার লক্ষ্যে আরও কড়া অবস্থান নিল আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, নগর উন্নয়নের লক্ষ্য শুধু যানবাহনের গতি বাড়ানো নয়; সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা মাথায় রেখেই ফুটপাথ ও রাস্তার নকশা তৈরি করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অধিকাংশ শহরে পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এখনও নেই। অনেক জায়গায় ফুটপাথ থাকলেও তা দখল হয়ে যায়, আবার কোথাও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কেই হাঁটেন, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে শহরগুলিতে নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি নগর পরিকল্পনায় ‘পথচারী আগে’ নীতির ওপরও নতুন করে জোর পড়বে। আদালতের আশা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নির্দেশ দিলেই হবে না। ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখা, নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়েই এই উদ্যোগ সফল হতে পারে। তাহলেই আদালতের নির্দেশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও শহরগুলিকে সত্যিকারের পথচারীবান্ধব করে তুলবে।