অর্থ ও বাণিজ্য

হরমুজের ঘাটতি সামলে এলএনজি আমদানিতে ভরসা, যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া-ওমান থেকে বাড়ছে সরবরাহ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ভারত বিকল্প উৎস থেকে আমদানি…
  • বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া এবং ওমান থেকে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প এবং নগর গ্যাস বিতরণে জ্বালানির ঘাটতি না…
  • জ্বালানি খাতের সূত্রগুলির মতে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আসা কিছু কার্গো বিলম্বিত হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি আমদানিকারকেরা দ্রুত বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ভারত বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া এবং ওমান থেকে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প এবং নগর গ্যাস বিতরণে জ্বালানির ঘাটতি না হয়।

জ্বালানি খাতের সূত্রগুলির মতে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আসা কিছু কার্গো বিলম্বিত হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি আমদানিকারকেরা দ্রুত বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি সক্রিয় করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত কার্গো আনা হয়েছে, পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও কয়েকটি চালান কেনা হয়েছে। নাইজেরিয়া ও ওমান থেকেও অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহ করা হয়েছে।

ভারতের মোট এলএনজি আমদানির বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে আসে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলালে স্পট মার্কেটের গুরুত্ব বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিকল্প রুট ও বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি এলেও যাত্রাপথ দীর্ঘ, কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ভারতের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে সচল রাখতে সাহায্য করছে। একই সঙ্গে সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। শহরাঞ্চলে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ এবং সিএনজি নেটওয়ার্কেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির একটি বড় পরীক্ষা। এক বা দুই দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার বদলে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কৌশলই ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ চলছে।

যদিও বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবু পরিবহণ ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চ মূল্যের কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে শিল্প ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে আপাতত সরবরাহ অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন অস্থিতিশীল থাকলে বিশ্ব এলএনজি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles