ইরানকে ‘শাস্তি’ দিতে নতুন কৌশলের খোঁজে আমেরিকা

যা জানা জরুরি
- ইরানকে আরও চাপে ফেলে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এবার প্রচলিত সামরিক কৌশলের বাইরে নতুন পথ খুঁজছে আমেরিকা।
- মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের ‘সৃজনশীল’ ও ‘অপ্রচলিত’ উপায় খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ফের হামলার হুমকির ঠিক আগেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইরানকে আরও চাপে ফেলে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এবার প্রচলিত সামরিক কৌশলের বাইরে নতুন পথ খুঁজছে আমেরিকা। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের ‘সৃজনশীল’ ও ‘অপ্রচলিত’ উপায় খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ফের হামলার হুমকির ঠিক আগেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা বিপুল সংখ্যক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো একটি ই-মেলে জানান, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো এবং দেশটিকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার জন্য নতুন, সৃজনশীল ও প্রচলিত ধারার বাইরে থাকা উপায় খোঁজা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালে সেই হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।
গভীর ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ
সিএনএনের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। তার মধ্যে অন্যতম ইরানের অবশিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলিতে ফের হামলা চালানো।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার আগের হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-সহ কয়েকটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করছে। এসব জায়গায় পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বা সরঞ্জাম থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমস্যা হল, এই স্থাপনাগুলি এত গভীরে তৈরি যে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বোমাও সেগুলিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম নাও হতে পারে। সিএনএনের সূত্রের দাবি, সম্পূর্ণ ধ্বংস নিশ্চিত করতে হলে স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু সেই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ধরনের সামরিক অভিযান যেমন আমেরিকান সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়াবে, তেমনই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করবে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সেই বিকল্প নিয়ে সতর্ক।
‘আতশবাজি’র মতো সীমিত হামলার ভাবনাও
সিএনএনের আরেকটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এমন একটি সীমিত সামরিক অভিযানের কথাও ভাবছেন, যা অনেকটা ‘আতশবাজির প্রদর্শনী’র মতো প্রতীকী হামলা হতে পারে। আগের হামলায় যে লক্ষ্যগুলিকে নিশানা করা হয়েছিল, সেগুলিতেই অথবা একই ধরনের স্থাপনায় ফের আঘাত হানার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে সামরিক সাফল্যের বার্তা দেওয়া সম্ভব হলেও সমস্যা থেকেই যাবে। কারণ এমন সীমিত হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নাও হতে পারে। অর্থাৎ, ট্রাম্প তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য পূরণ না করেই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
আরও বড় প্রশ্ন হরমুজ প্রণালী। ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে শুধুমাত্র প্রতীকী হামলা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ।
একটি সূত্রের কথায়, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের লক্ষ্য হবে সমঝোতায় পৌঁছনো। তাই একদিকে ইরানের ওপর কঠোর চাপ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজা—দুই কাজই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চাইছে তাঁর প্রশাসন।
শুধু বোমা ফেললেই ইরান নতি স্বীকার করবে না?
এর আগেও সিএনএন জানিয়েছিল, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)-র মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধুমাত্র বোমাবর্ষণ করে ইরানের আলোচনার অবস্থান বদলানো সম্ভব নয়।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও সম্প্রতি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। গত মাসে আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেছিলেন, বিমান শক্তিরও নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সিএনএনের দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা, ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা এবং স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিপুল ঝুঁকি—এই সবকিছুই ট্রাম্পকে আরও বড় সামরিক অভিযান অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্ক করে তুলছে।
ফলে আপাতত আমেরিকার সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখা, অথচ এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া যাতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনীতির দরজাও তাই খোলা রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



