উত্তরপ্রদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও ভুয়ো ‘এনকাউন্টার’-এর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বুলন্দশহরের এক দুগ্ধ ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাত জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (এসএইচও), এক সাব-ইনস্পেক্টর, এক কনস্টেবল এবং চার জন অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশ সদস্য। ঘটনার জেরে সাত জনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী সালমান নামে ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি টোল প্লাজার কাছে পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয়। কোনও কারণ না জানিয়েই তাঁকে জোর করে সিকান্দরাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সালমানের দাবি, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বারবার আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাঁকে ভয় দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ, পুলিশ জানায়—যদি ২০ লক্ষ টাকা না দেওয়া হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দেওয়া হবে এবং একটি সাজানো ‘এনকাউন্টার’-এ তাঁর পায়ে গুলি করে দেওয়া হবে। পরিবারের সদস্যদের ডেকে টাকার ব্যবস্থা করার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ভয় ও চাপে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে কিছু তথ্যের সত্যতা মিলতেই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপহরণ, বেআইনি আটক, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত সাত জনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে কোনও রকম পক্ষপাত করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনা নতুন করে উত্তরপ্রদেশে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথাকথিত ‘এনকাউন্টার সংস্কৃতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, ভুয়ো এনকাউন্টারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিরোধী দলগুলিও ঘটনাটির কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের দাবি, কোনও পুলিশকর্মী আইন ভঙ্গ করলে তাঁকে রেয়াত করা হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।