ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ককে সামনে রেখে জাপানের বিদেশ মন্ত্রক (মোফা) বিশেষ ‘জাপান-ভারত অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ’ গঠন করেছে। এই নতুন বিভাগের মূল লক্ষ্য হবে জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণে সহায়তা করা।
জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিভাগটি ১ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া বিভাগের অধীনে থাকবে এবং ভারতকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে জাপানের বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ভারতে ব্যবসা বিস্তারের পথে থাকা প্রশাসনিক ও নীতিগত বাধা দূর করার চেষ্টা করবে।
জাপান সরকার মনে করছে, বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম ভারত আগামী দশকে উৎপাদন, অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার বাজার হয়ে উঠবে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই এই বিশেষ বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু বিনিয়োগ নয়, নতুন বিভাগটি ভারত-জাপান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতাও আরও গভীর করবে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও নির্ভরযোগ্য করা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো এর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-জাপান সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়েই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প, মেট্রো রেল, শিল্প করিডর, উৎপাদন খাত এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপান অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী। বর্তমানে প্রায় ১,৪০০ জাপানি সংস্থা ভারতে ব্যবসা করছে এবং টোকিও আগামী দশকে ভারতে বিনিয়োগ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগ কেন্দ্র গড়ে তোলার বৈশ্বিক প্রবণতার মধ্যেই ভারতের গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। জাপানের নতুন উদ্যোগ সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। এর ফলে শুধু নতুন বিনিয়োগই নয়, উন্নত প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।