হাইলাইটস:
- দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্পীদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা বীর দাস।
- শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন তিনি।
- এক্স-এ করা দীর্ঘ পোস্টে বলেন, ‘এই ইস্যু আর রাজনৈতিক নয়, এটি এখন শুধু যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।’
- বিতর্কিত পোস্টটি পরে মুছে ফেললেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বীর দাস।
- এর আগে প্রকাশ রাজ, বিশাল দাদলানি, দিলজিৎ দোসাঞ্জের মতো তারকারাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লিতে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলন ঘিরে এবার সরব হলেন আন্তর্জাতিক এমি-জয়ী কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা বীর দাস। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস-সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি শুধু সরকারের উদ্দেশেই নয়, বিনোদন জগতের শিল্পীদের নীরবতা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার সকালে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা একটি দীর্ঘ পোস্টে বীর দাস লেখেন, একজন ভারতীয় মঞ্চশিল্পী হিসেবে যদি তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মুখ না খোলা হয়, অথচ পরে সেই তরুণদের কাছেই অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি করতে যাওয়া হয়, তাহলে সেটি ভণ্ডামির শামিল।
তিনি লেখেন, “আপনি যদি একজন ভারতীয় লাইভ পারফর্মার হন, তাহলে আশা করি বুঝতে পারবেন— তরুণদের পাশে না দাঁড়িয়ে পরে তাদের কাছেই টিকিট বিক্রি করতে যাওয়ার মধ্যে কত বড় ভণ্ডামি রয়েছে।”
বীর দাসের মতে, ভারতের কনসার্ট সংস্কৃতি এবং লাইভ বিনোদনের বাজার মূলত তরুণ দর্শকদের উপরই দাঁড়িয়ে। অথচ তাঁদের উদ্বেগ, দাবি কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে শিল্পীদের বড় অংশ নীরব থাকছেন।
তিনি আরও লেখেন, “ভারতের কনসার্ট অর্থনীতি তৈরি হয়েছে তরুণদের একত্রিত হওয়ার উপর। অনেকেই বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক নই।’ কিন্তু অনেক সময় এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়ায়— ‘আমি খুব আরামদায়ক অবস্থায় আছি।’”
শিল্পীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে বিষয়টি আর কোনও রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের প্রশ্ন নয়। বরং এটি দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের ন্যায্য দাবির প্রশ্ন।
বীর দাস লেখেন, “আজ বিনীতভাবে বলতে চাই, এই ইস্যু আর রাজনৈতিক বা দলীয় নয়। এটি এখন শুধুই যুবসমাজের বিষয়। তাঁদের যে বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, অন্তত সেগুলিকে নিজের মঞ্চ থেকে তুলে ধরুন। এরপর আপনি যা ইচ্ছা করুন।”
পোস্টে তিনি হিন্দিতেও একটি মন্তব্য করেন— “আপনা আপনা দেখ লো, লেকিন মেরে লিয়ে পৌঁছ জানা— এটা চলে না।” অর্থাৎ, নিজের স্বার্থের সময় দর্শকদের পাশে চাইবেন, কিন্তু তাঁদের সমস্যার সময় চুপ করে থাকবেন— এমন মানসিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে পোস্টটি কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মুছে দেন। যদিও পরে সেই পোস্ট নিয়ে যাঁরা প্রতিক্রিয়া জানান, তাঁদের একাধিক মন্তব্যের উত্তর দিয়ে বীর দাস স্পষ্ট করেন যে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
দিল্লিতে গত কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার ছাত্র-যুব শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম, বিশেষ করে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন করছেন। তাঁদের অন্যতম দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এই আন্দোলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা প্রকাশ রাজ, সঙ্গীতশিল্পী বিশাল দাদলানি এবং গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বীর দাসও।
বীর দাসের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে শিল্পীদের সামাজিক দায়িত্বের প্রসঙ্গ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুতে অবস্থান নেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
তবে পোস্টটি মুছে ফেলা সত্ত্বেও একটি বিষয় স্পষ্ট— দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা বিতর্কে নিজের অবস্থান জানাতে পিছিয়ে থাকতে চাননি বীর দাস। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন— যাঁদের সমর্থনে শিল্পীদের জনপ্রিয়তা ও অনুষ্ঠান সফল হয়, তাঁদের সংকটের সময় শিল্পীদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?