Table of Contents
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ অগস্ট ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করতে পারেন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং তাঁর ঢাকা ছাড়ার দুই বছর পূর্তির দিনেই এই কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল।
আয়োজকদের দাবি, নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা তাঁর ‘স্বদেশে ফেরার ঘোষণা’ এবং বাংলাদেশ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। তাঁর সঙ্গে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রাক্তন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ই-মেল সাক্ষাৎকার, আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন শেখ হাসিনা। তবে এবার সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনুষ্ঠানটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
দেশে ফেরার বার্তা কতটা স্পষ্ট?
শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।
তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথে বড় বাধা আইনি পরিস্থিতি। ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামানও সম্প্রতি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আদালতে আত্মসমর্পণের আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
ফলে ৫ অগস্টের ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ঠিক কী ধরনের ‘ফেরার রূপরেখা’ দেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও বাড়বে চাপ
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তাঁর অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রেও সরকারের কড়া অবস্থান রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হলেও দলের একাধিক নেতা দেশে ফিরে সংগঠন পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করতে পারে।
‘ফেরা’ নিয়ে কী শর্ত রেখেছেন হাসিনা?
শেখ হাসিনা এর আগে স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি।
তাঁর দাবি, এই পরিবেশ তৈরি হলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তাই ৫ অগস্টের সম্ভাব্য বার্তা নিছক ‘ফিরে আসার ঘোষণা’ নাকি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকারও কোনও রূপরেখা—সেদিকেই নজর থাকবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই: শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফেরার সময়সীমা জানাবেন, নাকি শর্তসাপেক্ষে নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথটাই স্পষ্ট করবেন?