বারুইপুরে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাষ মণ্ডলের ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, কী পরিস্থিতিতে এই এনকাউন্টার ঘটল এবং ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৮ অগস্ট।
আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, গ্রেপ্তারের পর ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাষ মণ্ডলকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। তাঁর বক্তব্য, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে অভিযুক্ত কোনও পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিতে পারতেন না। ফলে পুলিশের দাবি অনুযায়ী যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা এড়ানো সম্ভব ছিল।
রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, ৭ জুলাই গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রভাষ মণ্ডল আচমকাই এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পৃথক মামলা রুজু করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব বর্তমানে সিআইডি-র তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
শিলাদিত্য রক্ষিত দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় পুলিশের সেই দাবি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে ৮ জুলাই ভোরে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ চলাকালীন এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রভাষ মণ্ডল। সেই সময়ই পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
পুলিশের দাবি, যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রভাষকে। অভিযোগ, বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) সদস্য রনি সরকারের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন তাঁকে আটকাতে না পেরে আর এক পুলিশকর্মী অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রভাষের শরীরে দুটি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রভাষ মণ্ডলকে ওই কিশোরীকে অনুসরণ ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ, পরে তিনি এবং আরও কয়েকজন মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুন করে দেহ একটি পুকুরে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় প্রভাষ ছাড়াও আনন্দ সরদার, দিবাকর সরদার এবং কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৪ জুলাই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে তার দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে।