বাংলাস্ফিয়ার: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মার্ভেল অনুরাগীরা যেমন পিটার পার্কারের নতুন অধ্যায় দেখতে উচ্ছ্বসিত, তেমনই ছবির সমাপ্তি এবং শেষ ক্রেডিটের দৃশ্য নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে—এরপর স্পাইডার-ম্যানের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে?

ছবির একেবারে শেষে দেখা যায়, পিটার পার্কার নিজের প্রকৃত পরিচয় জানিয়ে দেয় তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেডকে। এরপর দু’জনের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই পুরনো ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ হয়ে যায়। এতে অনেকেরই ধারণা, ডক্টর স্ট্রেঞ্জের স্মৃতি মুছে দেওয়ার জাদু হয়তো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি; অন্তত শরীরের স্মৃতিতে (মাসল মেমরি) কিছুটা রয়ে গেছে।

তবে এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে শেষ ক্রেডিটে। অন্যান্য মার্ভেল ছবির মতো এখানে আলাদা মিড-ক্রেডিট বা পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্য নেই। বরং একেবারে শেষ মুহূর্তে দেখা যায় নেডের তৈরি ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’, যা স্পাইডার-ম্যানকে খুঁজে বের করার জন্য বানানো হয়েছিল।

সেখানে ইঙ্গিত মেলে, পিটার পার্কার আর নিউ ইয়র্কে নেই—এমনকি পৃথিবীতেও নেই। ট্র্যাকারের সংকেত যেন মহাকাশের কোনও অজানা স্থান থেকে আসছে। এই দৃশ্য ঘিরেই এখন নানা তত্ত্ব ঘুরছে অনুরাগীদের মধ্যে।

মার্ভেল এখনও নতুন কোনও স্পাইডার-ম্যান ছবির ঘোষণা না দিলেও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ার্স’ ইতিমধ্যেই ঘোষিত। যদিও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর ঘোষিত অভিনেতাদের তালিকায় টম হল্যান্ডের নাম নেই, তবু বিশাল এই প্রকল্পে চমকপ্রদ উপস্থিতি বা ক্যামিও থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যদি টম হল্যান্ড ‘ডুমসডে’-তে না-ও থাকেন, তা হলে শেষ ক্রেডিটের এই দৃশ্য হয়তো ‘সিক্রেট ওয়ার্স’-এ তাঁর প্রত্যাবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অনুরাগীদের ৬টি জনপ্রিয় তত্ত্ব

১. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-তে মহাকাশে পিটার পার্কার

অনেকের ধারণা, ট্র্যাকারের সংকেত সরাসরি পরবর্তী অ্যাভেঞ্জার্স ছবির দিকেই ইঙ্গিত করছে। পিটার হয়তো এমন এক মহাজাগতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে চলেছেন, যার সঙ্গে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের বহুবিশ্ব সংকটের যোগ রয়েছে।

২. ট্র্যাকারে ধরা পড়েছে অন্য কোনও স্পাইডার-ম্যান

আরও একটি জনপ্রিয় মত, পিটার পার্কার হয়তো এখনও কুইন্সেই রয়েছেন। ট্র্যাকার যে সংকেত পাচ্ছে, তা টম হল্যান্ডের পিটার নয়, বরং অন্য কোনও মহাবিশ্বের স্পাইডার-ম্যানের।

৩. ফিরতে পারেন অ্যান্ড্রু গারফিল্ড বা টোবি ম্যাগুয়ার

যেহেতু সংকেত পৃথিবীর বাইরে থেকে আসছে এবং মার্ভেল ইতিমধ্যেই বহুবিশ্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছে, তাই অনেকের বিশ্বাস ট্র্যাকার হয়তো অ্যান্ড্রু গারফিল্ড বা টোবি ম্যাগুয়ারের স্পাইডার-ম্যানকে শনাক্ত করেছে। যদিও এ নিয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা নেই, তবু ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর পর আবারও বহু-বিশ্বের পুনর্মিলনের আশা করছেন অনুরাগীরা।

৪. এ কি মাইলস মোরালেসের আগমনের ইঙ্গিত?

কিছু দর্শকের মতে, এই সংকেত আসলে অন্য এক মহাবিশ্ব থেকে আসা মাইলস মোরালেস-এর। কমিকসের ‘সিক্রেট ওয়ার্স’-এ বিভিন্ন বাস্তবতার চরিত্রদের একত্রিত হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তার সঙ্গেও এই তত্ত্বের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

৫. শুরু হতে চলেছে ‘ইনকারশন’?

আরও একটি ব্যাখ্যা হল, দুটি মহাবিশ্ব পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করেছে। ফলে ট্র্যাকার দ্বিতীয় এক স্পাইডার-ম্যানের উপস্থিতি শনাক্ত করছে। সে ক্ষেত্রে পিটার মহাকাশে গিয়েছেন, এমনটা নয়; বরং বাস্তবতার সংঘর্ষ বা ‘ইনকারশন’-এর সূচনাই এই দৃশ্যের মূল ইঙ্গিত, যা ‘ডুমসডে’ এবং ‘সিক্রেট ওয়ার্স’-এর ভিত্তি তৈরি করবে।

৬. স্পাইডার-ম্যান কি ‘ব্যাটলওয়ার্ল্ড’-এর পথে?

আরও একটি জল্পনা, মহাকাশের এই দৃশ্য আসলে ‘ব্যাটলওয়ার্ল্ড’-এর পূর্বাভাস। কমিকসে ‘সিক্রেট ওয়ার্স’-এর কেন্দ্রীয় প্রেক্ষাপট এই ব্যাটলওয়ার্ল্ড। যদিও এটি এখনই নিশ্চিত নয়, তবু মার্ভেলের বর্তমান বহুবিশ্ব-নির্ভর গল্পের সঙ্গে এই সম্ভাবনা যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।

টম হল্যান্ডের ইঙ্গিত: একদিন অন্য কারও হাতে যাবে স্পাইডার-ম্যানের দায়িত্ব

এদিকে সম্প্রতি ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টে টম হল্যান্ড জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি ধীরে ধীরে এই চরিত্রের দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মার্ভেলের সঙ্গে কাজ করছেন।

তাঁর কথায়, “‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ শেষ হওয়ার পর থেকেই আমরা দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। সময়ের সঙ্গে সেটি বদলাতে পারে, কিন্তু চরিত্রটির দায়িত্ব কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। বিষয়টি আমাকে ভীষণ উত্তেজিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই চরিত্রটিকে নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি যা করতে চাই, সেটাই হল সঠিক সময়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের পথ তৈরি করা।”

টম হল্যান্ড প্রথম স্পাইডার-ম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০১৬ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ ছবিতে। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ (২০১৭), ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২০১৮), ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯), ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯), ‘ভেনম: লেট দেয়ার বি কারনেজ’ (২০২১) এবং ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)-এ।