ওডিসিউসের জন্য ম্যাটই কেন? কারণ জানালেন ক্রিস্টোফার নোলান
হাইলাইটস
- ‘দ্য ওডিসি’-তে ওডিসিউসের চরিত্রে ম্যাট ডেমনকে বেছে নেওয়ার কারণ জানালেন ক্রিস্টোফার নোলান।
- নোলানের মতে, ডেমনের মধ্যে নায়কোচিত উপস্থিতি ও গভীর মানবিক আবেগ—দুটিই রয়েছে।
- দীর্ঘ ও আবেগঘন যাত্রার সঙ্গে দর্শককে বেঁধে রাখার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করেছে।
ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। হোমারের মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে গ্রিক বীর ওডিসিউস-এর চরিত্রে অভিনয় করছেন ম্যাট ডেমন। কেন এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য ডেমনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা এবার নিজেই দিলেন নোলান।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোলান বলেন, ওডিসিউস শুধু একজন যুদ্ধজয়ী নায়ক নন; তিনি একই সঙ্গে গভীরভাবে মানবিক। তাঁর মধ্যে সাহস, বুদ্ধিমত্তা, দুর্বলতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা এবং আত্মসংঘর্ষ—সবকিছুরই মিশেল রয়েছে। এমন একটি বহুমাত্রিক চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে এমন একজন অভিনেতার প্রয়োজন ছিল, যিনি দর্শককে পুরো যাত্রাপথে আবেগের সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারবেন।
নোলানের কথায়, “এই যাত্রায় দর্শককে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে এমন একজন অভিনেতার প্রয়োজন ছিল। ম্যাটের মধ্যে যেমন কিংবদন্তিসুলভ নায়কের উপস্থিতি আছে, তেমনই তিনি চরিত্রকে গভীরভাবে মানবিক করে তুলতে পারেন।”
পরিচালকের মতে, ম্যাট ডেমনের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তিনি পর্দায় নিজের তারকাখ্যাতিকে আড়াল করে চরিত্রের ভেতর সম্পূর্ণভাবে মিশে যেতে পারেন। ফলে দর্শক তাঁকে ‘ম্যাট ডেমন’ হিসেবে নয়, বরং ওডিসিউস হিসেবেই গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে চরিত্রটির আবেগ ও মানসিক টানাপোড়েনও সহজেই দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।
গ্রিক পুরাণে ট্রয় যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য ইথাকায় ফিরতে ওডিসিউসকে প্রায় এক দশক ধরে অসংখ্য বিপদ, প্রলোভন ও অলৌকিক শক্তির মুখোমুখি হতে হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় যেমন তাঁর বীরত্বের পরিচয় মেলে, তেমনই প্রকাশ পায় ভয়, অনুশোচনা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। নোলানের বিশ্বাস, এই জটিল আবেগগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারবেন ম্যাট ডেমন।
ডেমনের আগের কাজগুলির প্রসঙ্গ টেনেও নোলান বলেন, একাধিক ছবিতে তিনি একই সঙ্গে শক্তিশালী নায়ক এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ওডিসিউস চরিত্রের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে।
‘দ্য ওডিসি’ নোলানের কেরিয়ারের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে। আইম্যাক্স প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ছবিতে ম্যাট ডেমনের পাশাপাশি রয়েছেন টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেন্ডায়া, লুপিটা নিয়ং’ও, শার্লিজ থেরন এবং রবার্ট প্যাটিনসন।
ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়েছে। নোলানের কথায়, তাঁর লক্ষ্য শুধু এক পৌরাণিক বীরকে তুলে ধরা নয়, বরং এমন একজন মানুষকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা, যার সাহস, দুর্বলতা এবং আবেগের সঙ্গে আজও দর্শক নিজেদের মিল খুঁজে পান।