নয়াদিল্লিতে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর বসতে চলেছে BRICS-এর শীর্ষ সম্মেলন। আর সেই সম্মেলন ঘিরেই জোরদার হচ্ছে কূটনৈতিক জল্পনা—একই মঞ্চে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা যাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে?
প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের দাবি, তিন রাষ্ট্রনেতারই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা সত্যি হলে ভারতের জন্য এই শীর্ষ সম্মেলন শুধু একটি বহুপাক্ষিক বৈঠক থাকবে না, বরং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন সমীকরণের দরজা খুলতে পারে।
শি ফিরলে বরফ কি গলবে?
শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চূড়ান্ত হলে ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এটাই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। সেবার তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছিলেন তিনি।
কিন্তু সেই উষ্ণতার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। কয়েক মাসের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) ঘিরে ভারত-চীন সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দেশের সম্পর্কও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখে পড়ে।
সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। সীমান্ত পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—কোন পথে এগোবে দুই দেশের সম্পর্ক, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠকে।
পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেন থেকে জ্বালানি
BRICS মঞ্চে ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক সমীকরণের মধ্যেও ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-পুতিন বৈঠক হলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পেজেশকিয়ানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সম্ভাব্য উপস্থিতিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) মধ্যে মতপার্থক্যের আবহেও অনুষ্ঠিত হবে এবারের সম্মেলন।
ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা গতি পেতে পারে।
BRICS-এ ভারতের বড় বার্তা
এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করতে চাইছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা—এমন একাধিক বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।
BRICS-এর সম্প্রসারণের পর এই জোটের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক বেড়েছে। ফলে দিল্লির শীর্ষ সম্মেলন সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ দিক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।
আর যদি একই মঞ্চে মোদি, শি, পুতিন ও পেজেশকিয়ানকে দেখা যায়, তাহলে দিল্লির BRICS সম্মেলন নিঃসন্দেহে বিশ্ব কূটনীতির নজরের কেন্দ্রে উঠে আসবে।