দুই দেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি উল্লেখ করেন, “এমন কোনো সংকট নেই, যা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা সম্ভব নয়।”
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাথে সৌজন্যমূলক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কিত প্রশ্নে ভারতীয় দূত জানান, “এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। এ ধরনের সাক্ষাতে কুশল বিনিময়ই মূল বিষয়।
“দিনশেষে মূল বিষয়টি হলো জনগণে-জনগণে সম্পর্ক, তাই দুই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও তাদের জনগণের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।”
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা নবায়ন সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমি এটুকুই বলতে পারি, এ সংক্রান্ত একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ দুই পক্ষেরই প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্যে নিশ্চয়ই যোগাযোগ ও বৈঠক হবে।
“আমি যেমনটা আগেই বলেছি, সমাধান করা অসম্ভব—এমন কোনো বিষয় নেই। ওয়ার্কিং গ্রুপ অবশ্যই তাদের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাবে। আর উভয় দেশের জনগণের পক্ষে যা হিতকর, তা-ই বাস্তবায়ন হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করবেন এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে…।
“তাই সবকিছুই ইতিবাচক দিকে যাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী।… অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে এই চমৎকার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব একতিয়ারভুক্ত। তবে আমাদের তরফ থেকে আমি বলতে পারি, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনী সফরের জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছি।
“আমি নিশ্চিত, খুব শিগগিরই এই সফর বাস্তবায়িত হবে। আমরা এই বিষয়ে খুবই আশাবাদী এবং সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছি।”
এমন কোনো সংকট নেই, যা সুরাহা করা সম্ভব নয়: ভারতীয় দূত
19