বাংলাস্ফিয়ার: ২০ জুলাই রাজধানীতে ছাত্র-যুব বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সেদিন মোতায়েন থাকা র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর একাধিক সদস্যকে পেলেট গান দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, অস্ত্রগুলি কেবলমাত্র জরুরি পরিস্থিতির জন্য বহন করা হয়েছিল এবং সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশি বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে ছাত্র-যুব মিছিল ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই বাহিনীর মধ্যেই আরএএফের কিছু সদস্যের হাতে পেলেট গান ছিল। ঘটনার পর শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ তদন্তে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সেদিনের অভিযানে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন। কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ ওঠে, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং ছাত্র সংগঠনগুলি শুরু থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কার নির্দেশে পেলেট গান বহন করা হয়েছিল, বাহিনীর কোন ইউনিটের কাছে তা ছিল এবং সেগুলি আদৌ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। ঘটনাস্থলের ভিডিও, ওয়্যারলেস লগ, অস্ত্র ইস্যুর নথি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, তাঁদের শরীরে পেলেটজাতীয় আঘাতের কোনও চিহ্ন রয়েছে কি না।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার একাংশের বক্তব্য, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরনের নন-লেথাল বা কম প্রাণঘাতী অস্ত্র বাহিনীর কাছে থাকে। তবে সেগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। তাদের দাবি, অস্ত্র সঙ্গে থাকা মানেই তা ব্যবহার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে পেলেট গানের উপস্থিতিই উদ্বেগের বিষয়। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে এই অস্ত্র ব্যবহারে গুরুতর আহত হওয়ার বহু অভিযোগ উঠেছে। তাই ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনা জরুরি।
এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও কম নয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, ছাত্রদের আন্দোলন দমনে সরকার অতিরিক্ত কড়া অবস্থান নিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রশাসনের লক্ষ্য। বিক্ষোভের সময় কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বলেও সরকারি মহলের বক্তব্য।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে আরএএফ সদস্যদের হাতে এই অস্ত্র থাকার বিষয়টি সামনে আসায় ২০ জুলাইয়ের অভিযানের প্রকৃতি, বলপ্রয়োগের সীমা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টই নির্ধারণ করবে ওই দিন নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ম মেনে হয়েছিল, নাকি কোথাও ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটেছিল।