বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে আইনজীবী, আদালতের কর্মী এবং বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই বিষয়টি বিচারিকভাবে শুনতে পারে।

দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং এই বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় শত শত আইনজীবী, আদালতের কর্মী এবং মামলাকারীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আদালতে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

বিকাশ সিংয়ের প্রস্তাব ছিল, নিরাপত্তার স্বার্থ বজায় রেখেই একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের প্রক্সিমিটি কার্ডধারী আইনজীবী ও রেজিস্ট্রির কর্মীদের পরিচয় যাচাই করে এবং স্টেশন থেকে বেরোনোর সময় নিরাপত্তা তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, আবার আদালতের কাজও স্বাভাবিক থাকবে।

এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তিনি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুপুরের মধ্যেই একটি কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসবে।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদি প্রশাসনিক উদ্যোগে সমস্যার নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য আদালতের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বিচারপ্রাপ্তির অধিকার এবং আদালতে নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর জেরে শুধু সাধারণ যাত্রীই নন, সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত যাতায়াতকারী আইনজীবী, আদালতের কর্মী এবং মামলাকারীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

আইনজীবীদের মতে, নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই অজুহাতে বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। আদালতে পৌঁছানোর পথ অকারণে বন্ধ থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে তাই অনেকেই প্রশাসনের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন—নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। যদি তা না হয়, তাহলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিজেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।