বাংলাস্ফিয়ার: রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনার আবহে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক নাটকীয়তার নতুন অধ্যায় রচিত হল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা তিস জানুয়ারি মার্গের গান্ধী স্মৃতিতে পৌঁছে নীট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে আহত আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিরোধী নেতাদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। ফলে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার সকালে সুনেহরি বাগ রোডে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ ও নেতারা জড়ো হন। সেখান থেকেই তাঁরা একসঙ্গে গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা দেন। কংগ্রেসের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া বিরোধী প্রতিনিধিদলের উপর অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং নিরাপত্তার নামে তাদের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

গান্ধী স্মৃতিতে পৌঁছে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আর কেবল একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং সরকারের ব্যর্থতার মূল্য দিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না।

বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে বহু ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মহত্যায় প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের স্মরণ করাই ছিল এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। গান্ধীজির আদর্শের সঙ্গে শিক্ষার অধিকার ও অহিংস প্রতিবাদের সম্পর্ক তুলে ধরেই গান্ধী স্মৃতিকে কর্মসূচির স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে চলমান বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই ব্যারিকেড ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

এদিকে নীট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি এই আন্দোলনকে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার দাবি করছে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের গান্ধী স্মৃতি কর্মসূচি সেই রাজনৈতিক সংঘাতকেই আরও তীব্র করে তুলল। একদিকে ছাত্রদের প্রতি সংহতির বার্তা, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন বিতর্ক—দিল্লির ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিল, নীট প্রশ্নফাঁস-পরবর্তী আন্দোলন এখন আর শুধু শিক্ষা নয়, জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান সংঘর্ষের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে সংসদের ভিতরে ও বাইরে এই ইস্যু ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।