মুক্তির সময় বক্স অফিসে বড়সড় ঝড় তুলতে পারেনি। প্রথম কয়েক দিনে আয়ও ছিল প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম। কিন্তু ইতিবাচক সমালোচনা আর দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার ধীরে ধীরে বদলে দিল ছবির ভাগ্য। এবার প্রেক্ষাগৃহে ষষ্ঠ সপ্তাহে পা রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হিট’ ঘোষণা করা হল ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত ‘ম্যায়ন বাপাস আউঙ্গা’-কে।
ছবির প্রযোজক মোহিত চৌধুরী সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ছবিটি ইতিমধ্যেই তার নির্মাণ ব্যয় তুলে ফেলেছে। বক্স অফিস আয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য অ-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্ব থেকে আসা অর্থ মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন লাভজনক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে।
মোহিত চৌধুরীর কথায়, “‘ম্যায়ন বাপাস আউঙ্গা’-র বক্স অফিস সাফল্য দর্শকদের ভালোবাসারই প্রতিফলন। অসাধারণ ইতিবাচক প্রচারের জোরে ছবিটি এগিয়ে চলেছে এবং ৫০ দিনেরও বেশি সময় প্রেক্ষাগৃহে চলার পথে রয়েছে।”
বর্তমানে যেখানে অধিকাংশ ছবি মুক্তির দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিদায় নেয়, সেখানে ষষ্ঠ সপ্তাহেও ‘ম্যায়ন বাপাস আউঙ্গা’-র দৌড় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম সপ্তাহে ধীর গতিতে চললেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ছবির দর্শকসংখ্যা বাড়তে শুরু করে। অনেক প্রেক্ষাগৃহে শো কমানোর বদলে দর্শকদের চাহিদা দেখে নতুন করে শো বাড়ানো হয়।
ছবিটির সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে মুখে মুখে প্রচার। মুক্তির পর ইমতিয়াজ আলির পরিচালনা, আবেগঘন চিত্রনাট্য এবং অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্স নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে ছবির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটি আরও একবার প্রমাণ করল—বড় ওপেনিং বা বিশাল প্রচারই সব নয়। শক্তিশালী গল্প, আবেগের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ এবং ইতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ থাকলে দুর্বল সূচনার পরেও একটি ছবি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
বলিউডে এমন ‘স্লিপার হিট’-এর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি নয়। বড় তারকা-নির্ভর প্রচারের বদলে দর্শকদের সুপারিশেই যে একটি ছবি দীর্ঘ দৌড়ে যেতে পারে, ‘ম্যায়ন বাপাস আউঙ্গা’ সেই উদাহরণই নতুন করে সামনে আনল।
প্রযোজনা সংস্থার দাবি, থিয়েট্রিক্যাল আয়ের পাশাপাশি ওটিটি, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য স্বত্ব বিক্রি থেকে আসা অর্থ মিলিয়ে ছবিটি তার সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় উদ্ধার করেছে। ফলে এরপরের আয় সরাসরি লাভ হিসেবে গণ্য হবে।
ষষ্ঠ সপ্তাহেও প্রেক্ষাগৃহে ছবির উপস্থিতি এবং ৫০ দিনের বেশি প্রদর্শনের পথে এগিয়ে যাওয়া নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। বছরের শুরুতে যাকে অনেকেই সাধারণ একটি মুক্তি হিসেবে দেখেছিলেন, সেই ‘ম্যায়ন বাপাস আউঙ্গা’ এখন ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত ‘স্লিপার হিট’-এর গল্প হয়ে উঠেছে।