বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের বেসরকারি মেডান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ অনশন চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওয়াংচুককে পরিবারের সম্মতি ছাড়া সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি নিজের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান।
স্ত্রীর আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট চিকিৎসার অধিকার ও রোগীর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে ওয়াংচুককে মেডান্তায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
এর আগে আদালতের নির্দেশেই অনশনের একুশতম দিনে দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে জোর করে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাঁর পরিবার আদালতে জানায়, ওয়াংচুকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
মেডান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর শারীরিক পরীক্ষা শুরু করেছে। দীর্ঘ অনশনের ফলে শরীরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিরোধী দলগুলি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও আন্দোলনের দাবি থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত ওয়াংচুক বা তাঁর সমর্থকদের তরফে এখনও মেলেনি।