হাইলাইটস:
- কার্গিল যুদ্ধের ২৭তম বর্ষপূর্তির আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে তীব্র আক্রমণ করলেন মৌলানা ফজলুর রহমান।
- তাঁর অভিযোগ, কার্গিলে নিহত পাকিস্তানি সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা আজও প্রকাশ করা হয়নি।
- আরও দাবি, নিহত সেনাদের অনেকের মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল ইসলামাবাদ।
- ভারতের তরফে সেই মরদেহ ইসলামি রীতি মেনে দাফন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- কার্গিল যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কার্গিল যুদ্ধের ২৭তম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন দেশটির শীর্ষ ইসলামপন্থী নেতা ও জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) মৌলানা ফজলুর রহমান। প্রকাশ্য সভায় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মরদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি ইসলামাবাদ।
জামিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনী আজও দেশবাসীকে জানায়নি কার্গিল যুদ্ধে ঠিক কতজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিলেন।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা শহিদদের কতটা সম্মান করেন? বলতে পারবেন, কার্গিলে কতজন সেনা নিহত হয়েছিলেন? কতটি কফিন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল? আপনারা নিজেদের শহিদদের হিন্দুদের হাতে ফেলে রেখে এসেছিলেন। পরে সেখান থেকেই জানানো হয়, ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের দাফন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংখ্যা শোনা যায়, তবে নিহতের সংখ্যা কয়েকশো।”
কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার প্রথমদিকে নিয়মিত সেনা জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। দাবি করা হয়েছিল, কাশ্মীরি জঙ্গিরাই ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক মহল এবং বিভিন্ন সূত্রে স্পষ্ট হয়, পাকিস্তানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
ভারতের পক্ষ থেকে অতীতে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে বহু পাকিস্তানি সেনার মরদেহ উদ্ধার হলেও ইসলামাবাদ সেগুলি গ্রহণে অনীহা দেখায়। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী ইসলামি রীতি মেনে কয়েকটি মরদেহ দাফন করে। পাকিস্তান অবশ্য এ বিষয়ে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, সেনাবাহিনী শুধু নিহত সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করেনি, বরং শহিদদের যথাযথ মর্যাদাও দেয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের দখল করা একাধিক কৌশলগত শৃঙ্গ পুনর্দখল করে। যুদ্ধ শেষে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানকে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়। কার্গিল যুদ্ধ পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে আজও আলোচিত।