Table of Contents
ইলাইটস
- ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হল আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো।
- ১৫ মিনিটের বিরতির নিয়ম ভেঙে আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই ছিল বিতর্ক।
- প্রাক্-ম্যাচ অনুষ্ঠান দর্শকদের হতাশ করলেও হাফটাইম শো তুলনামূলকভাবে সফল।
- ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস, বার্না বয়, কোল্ডপ্লে ও জাস্টিন বিবার ছিলেন প্রধান আকর্ষণ।
- সমালোচকদের একাংশের মতে, এটি বিশ্বকাপকে ‘সুপার বোল’-এর অনুকরণে আমেরিকান রূপ দেওয়ার চেষ্টা।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ নানা নতুনত্বের সাক্ষী হয়েছে। অতিরিক্ত হাইড্রেশন ব্রেক, ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফা সভাপতিকে ফোন করে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলানোর অভিযোগ—এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো।
এই উদ্যোগ শুরু থেকেই বিতর্কে ঘেরা ছিল। প্রথমত, আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী বিরতি সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট হওয়ার কথা। কিন্তু এই শো আয়োজনের ফলে সেই সীমা কার্যত অতিক্রম করা হয়। দ্বিতীয়ত, সমালোচকদের অভিযোগ, এটি ফুটবলের নিজস্ব ঐতিহ্যের বদলে আমেরিকার এনএফএলের সুপার বোল সংস্কৃতিকে বিশ্বকাপের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
প্রাক্-ম্যাচ অনুষ্ঠান ছিল নিরাশাজনক
হাফটাইম শোর আগে অনুষ্ঠিত সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিন্তু দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি। এতটাই অনুজ্জ্বল ছিল যে ব্রিটেনের বিবিসি ও আইটিভি পর্যন্ত সেটি সরাসরি সম্প্রচার করার প্রয়োজন মনে করেনি।
যাঁরা অনলাইনে অনুষ্ঠানটি দেখেছিলেন, তাঁরা প্রথমে শুনলেন পোস্ট ম্যালোনের নতুন অ্যালবাম The Eternal Buzz-এর সম্ভাব্য প্রথম গান Chrome Heartbreaker। পরে তিনি সওয়ে লির সঙ্গে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় গান Sunflower।
এরপর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা ও পেশাদার কুস্তিগির আইশোস্পিড। তিনি গেয়েছিলেন Champions, যে গানটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ফিফা সেটিকে বিশ্বকাপের সরকারি অ্যালবামে স্থান দিয়েছিল।
তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই ঠান্ডা। বজ্রগর্জনের মতো ড্রাম, অটো-টিউন করা কণ্ঠ এবং অত্যন্ত সাধারণ কথার গান শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামে নেমে আসে প্রায় সম্পূর্ণ নীরবতা। পরে আতশবাজি ফোটানো হলে তবেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস শোনা যায়।
জাতীয় সঙ্গীত থেকে ফিফা সংগীত
এরপর জেনিফার হাডসন পরিবেশন করেন মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত।
রবি উইলিয়ামস, লরা পাওসিনি এবং নিকোল শেরজিঙ্গার একসঙ্গে গাইলেন ফিফার সরকারি সংগীত Desire। গত ডিসেম্বর ড্র অনুষ্ঠানে আত্মপ্রকাশ করা এই গানটি বিশ্বজুড়ে প্রায় কোনো জনপ্রিয়তাই পায়নি। সমালোচকদের মতে, গানটি আবার শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে কেন সেটি দ্রুত বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গিয়েছিল।
হাফটাইম শো বদলে দিল পরিবেশ
দীর্ঘ ও কিছুটা ক্লান্তিকর প্রাক্-ম্যাচ অনুষ্ঠানের পর হাফটাইম শো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রাণবন্ত মনে হয়েছে।
মাত্র ১১ মিনিটে একের পর এক শিল্পীর পরিবেশনা দ্রুত গতিতে সাজানো হয়েছিল। প্রতিটি গান সংক্ষিপ্ত রাখা হয়, ফলে অনুষ্ঠানের ছন্দ বজায় ছিল।
প্রথমেই ম্যাডোনা তাঁর ২০০০ সালের জনপ্রিয় গান Music নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করেন। একটি ‘ম্যাড ম্যাক্স’ ধাঁচের গাড়িতে উঠে তাঁর মঞ্চে প্রবেশ ছিল নজরকাড়া। সেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো ও রোনালদিনিয়ো।
এরপর বাজতে শুরু করে Seven Nation Army। গানটি পরিবেশন করে শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দ্য মামপেটস-এর কাল্পনিক ব্যান্ড ইলেকট্রিক মেহেম-এর তিন সদস্য। যদিও ব্যান্ডের নেতা ড. টিথকে মঞ্চে দেখা যায়নি।
এরপর দ্রুত মঞ্চে আসে বিটিএস, যারা গায় Dynamite। শাকিরা ও বার্না বয় পরিবেশন করেন বিশ্বকাপের জনপ্রিয় গান Dai Dai-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।
সবশেষে কোল্ডপ্লে গায় Believe in Love। একটি শিশু-কোরাস তাদের সঙ্গ দেয়। কাগজে-কলমে এই পরিবেশনা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ মনে হলেও বাস্তবে সেটি অনেক বেশি প্রাণবন্ত ছিল। স্টেডিয়ামে বাজতে থাকা অসংখ্য ভুভুজেলার শব্দ অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।
একমাত্র দুর্বল মুহূর্ত
অনুষ্ঠানের একমাত্র তুলনামূলক দুর্বল অংশ ছিল জাস্টিন বিবারের পরিবেশনা। তিনি গেয়েছিলেন ধীরগতির অ্যাকুস্টিক ব্যালাড Everything Hallelujah। গানটি সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে এমন বিষণ্ণ সুর অনেকের কাছেই বেমানান মনে হয়েছে।
বিতর্ক থাকলেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ?
সব মিলিয়ে, প্রথমবারের এই হাফটাইম শো হয়তো এমন বিস্ময়কর কিছু ছিল না যে ভবিষ্যতের প্রতিটি বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি অবশ্যই থাকা উচিত। তবে অন্তত ২০২৬ সালের ফাইনালে এটি নিজের অস্তিত্বের যথেষ্ট যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে।
অবশ্য সবাই একমত নন। বিবিসির উপস্থাপিকা গ্যাবি লোগান মতামত জানতে চাইলে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি এক কথায় রায় দেন—
“আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই একেবারে বাজে লেগেছে।”