হাইলাইটস
- একক বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী।
- সফদরজং থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়েছে পরিবার।
- আবেদনে দাবি, ওয়াংচুক গ্রেফতার নন, তাই হাসপাতাল বেছে নেওয়ার অধিকার তাঁরই।
- চিকিৎসার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন আইনি লড়াই শুরু।
সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি না দেওয়া দিল্লি হাইকোর্টের একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করলেন তাঁর স্ত্রী ডা. গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের করা আবেদনে তিনি দাবি করেন, এই নির্দেশ কার্যত ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতালে ‘অবৈধভাবে আটকে রাখার’ সামিল।
এর আগে বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণার একক বেঞ্চ ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে সরকার তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে কোনও স্বেচ্ছাচারিতা করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওয়াংচুকের সম্মতি ছাড়া তাঁকে জোর করে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণও সামনে আসেনি। চিকিৎসকেরা তাঁর সম্মতিতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে নতুন আবেদনে গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর দাবি, সোনম ওয়াংচুক কোনও মামলায় অভিযুক্ত নন, তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়নি। তাই তিনি কোথায় চিকিৎসা নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ও ব্যক্তিগত অধিকার তাঁর রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে পরিবারের পছন্দের হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সরকারের দাবি, সফদরজং হাসপাতালের পাশাপাশি এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও বজায় রাখা হচ্ছে।
এই মামলাকে ঘিরে দিল্লি হাইকোর্টে নতুন আইনি পর্ব শুরু হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের শুনানির পরই স্পষ্ট হবে, সোনম ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি মিলবে কি না, নাকি আপাতত সফদরজং হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলবে। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর পরিবার, প্রশাসন এবং আন্দোলনকারীদের।