Table of Contents
হাইলাইটস
- F-1 ছাত্রভিসায় ‘Duration of Status (D/S)’ ব্যবস্থা তুলে দিচ্ছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর (DHS)।
- চার বছরের বেশি পড়তে হলে USCIS-এর কাছে আলাদা করে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।
- পড়াশোনা শেষে ৬০ দিনের বদলে মিলবে মাত্র ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড।
- নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বা পড়াশোনা করা ৩ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থীর ওপর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। F-1 ছাত্রভিসায় এতদিন চালু থাকা ‘Duration of Status (D/S)’ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক থাকার নিয়ম চালু করছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর (DHS)। ফলে চার বছরের বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের আর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন যথেষ্ট হবে না; সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর (USCIS)-এর কাছে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পড়াশোনা করা বা ভবিষ্যতে ভর্তি হতে যাওয়া ৩ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিধি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হতে পারে। যদিও বেশ কিছু বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে যাঁরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়ছেন, তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ সুকন্যা রমণের মতে, এই নীতির ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পুরো কাঠামোই বদলে যাচ্ছে। এতদিন কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধভাবে থাকা যেত, এখন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে না পারলে আলাদা সরকারি অনুমতি নিতে হবে।
আগে কী ছিল?
এতদিন F-1 ভিসাধারীরা Duration of Status (D/S) ব্যবস্থার আওতায় থাকতেন। অর্থাৎ, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম মেনে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে তাঁদের বৈধ অবস্থান বজায় থাকত। কোর্স শেষ হতে অতিরিক্ত সময় লাগলে বিশ্ববিদ্যালয়ই সেই মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারত।
এখন কী বদলাচ্ছে?
নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে কোর্সের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। তবে প্রথম দফায় থাকার অনুমতির সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর।
পিএইচডি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গবেষণাভিত্তিক বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে চার বছরের বেশি সময় লাগলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি USCIS-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়া বা অন্য ভিসায় রূপান্তরের জন্য এতদিন যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল, তা কমে ৩০ দিনে নেমে আসছে।
দীর্ঘ কোর্সে বাড়বে চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণামূলক বা দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম প্রশাসনিক ঝামেলা অনেক বাড়াবে। অতিরিক্ত আবেদন, সরকারি ফি, নথিপত্র জমা এবং অনুমোদনে বিলম্ব হলে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ভারতীয়দের ওপর বড় প্রভাব
২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লক্ষ ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। তাঁদের বড় অংশই STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা গবেষণামূলক কোর্সে যুক্ত। শুধু ২০২৪ সালেই ৯০,১২৯ জন ভারতীয় F-শ্রেণির ছাত্রভিসা পেয়েছেন।
কেন এই পরিবর্তন?
DHS-এর দাবি, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য ছাত্রভিসার অপব্যবহার কমানো, অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা।
প্রশাসনের বক্তব্য, এতদিন অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী একের পর এক নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে কার্যত দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাচ্ছিলেন। নতুন নীতি সেই সুযোগ সীমিত করবে।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের কী হবে?
DHS জানিয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই D/S ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁরাও নতুন ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবেন। নিয়ম কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তাঁদের বৈধ থাকার সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হিসেবে গণনা শুরু হবে।
OPT থাকছে, তবে…
Optional Practical Training (OPT) বা STEM OPT আপাতত বাতিল হচ্ছে না।
- স্নাতকোত্তর শেষে ১২ মাসের OPT আগের মতোই থাকবে।
- STEM শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের STEM OPT-এর আবেদনও করতে পারবেন।
তবে নতুন সমস্যা হলো, যদি কারও চার বছরের অনুমোদিত থাকার মেয়াদ OPT চলাকালীন শেষ হয়ে যায়, তাহলে বৈধ F-1 মর্যাদা বজায় রাখতে তাঁকে আলাদা করে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। এ বিষয়ে DHS ও USCIS এখনও চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি।
উদ্বেগ বাড়ছে
অভিবাসন আইনজীবীদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে। বিশ্বের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের টানতে ও ধরে রাখতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে তাঁদের মতে, চলতি ফল (Fall) সেমিস্টারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই অধিকাংশ ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।
নতুন ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে সরাসরি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যাবে। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক যাচাই, পটভূমি পরীক্ষা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে অতিরিক্ত যাচাইও বাধ্যতামূলক করা হবে।