হাইলাইটস:
- মেক্সিকোর চিয়াপাস উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প।
- কম্পন অনুভূত হয়েছে গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরেও।
- ভূমিকম্পের পর ৩০০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা।
- প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি।
- অগভীর গভীরতায় ভূমিকম্প হওয়ায় আফটারশকের আশঙ্কা।
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় শুক্রবার শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চিয়াপাস উপকূলের কাছে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর গভীরতায় ভূমিকম্প হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।
USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আকিলেস সেরদান এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলসংলগ্ন অঞ্চলে। মূল ভূমিকম্পের আগে সমুদ্রের আরও কিছুটা দূরে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার একটি কম্পনও রেকর্ড করা হয়।
শক্তিশালী এই কম্পনের অভিঘাত শুধু মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অনেক মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ও অফিস থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্পের পর মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানায়, কেন্দ্রস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করে। উপকূলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া সমুদ্রের ধারে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, দেশটিতে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের তথ্য মেলেনি। তবে বিভিন্ন এলাকায় ভবন, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অন্তর্গত, যেখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ঘনঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। অতীতে ১৯৮৫ এবং ২০১৭ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী ছিল দেশটি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অগভীর গভীরতার কারণে এই ভূমিকম্পের অভিঘাত অনেক দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে আফটারশক হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি পরিষেবা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বজায় থাকবে। রয়টার্স ও এপি সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে।