হাইলাইটস:
- কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করল প্রশাসন।
- মসজিদ অপসারণের দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
- আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ, নজরদারি জোরদার।
- বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা।
বাংলাস্ফিয়ার: প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগেই কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বড় জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত একটি মসজিদকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ওই স্থাপনা নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। যদিও মসজিদ পরিচালনাকারী পক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে ধর্মীয় স্থাপনাটি সেখানে রয়েছে এবং আইন মেনেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ ও প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক ছিল। বিমানবন্দর, ভিআইপি রোড, যশোর রোড-সহ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সিসিটিভি, ড্রোন এবং কুইক রেসপন্স টিম। বিমানবন্দরে যাত্রীদের যাতায়াত যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে আপাতত তাঁর ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি থেকে তাঁরা সরে আসছেন না। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আইনি পথেও বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তাঁর দাবি।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ১৪৪ ধারা জারির উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে বাধা দেওয়া নয়; জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের মতো অতি-সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। কোনও ধরনের উস্কানিমূলক কর্মসূচি বা আইনভঙ্গের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রশাসন অযথা নিষেধাজ্ঞা জারি করে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করছে। শাসকপক্ষের বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর যে কোনও প্রচেষ্টা রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জনস্বার্থেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মসজিদ ঘিরে বিতর্ক এবং বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা—এই দুই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আপাতত প্রশাসনের নজর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক পরিষেবা বজায় রাখার দিকেই।