হাইলাইটস:

  • শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস ও জবাবদিহির দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশনের প্রতি সমর্থন জানাল একাধিক বিরোধী দল।
  • আপ, সমাজবাদী পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, তৃণমূল, শিবসেনা (উদ্ধব), বাম দলগুলির পর কংগ্রেসও প্রকাশ্যে সংহতি জানায়।
  • বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রের উচিত শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা।

বাংলাস্ফিয়ার: শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আম আদমি পার্টি (আপ) থেকে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি), তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে), সিপিআই ও সিপিআই (এমএল)-সহ একাধিক বিরোধী দল তাঁর দাবির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।

ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। তাঁর এই আন্দোলন মূলত তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, সাম্প্রতিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার।

প্রথম থেকেই আপ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ায়। দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল আন্দোলনস্থলে গিয়ে কেন্দ্রের কাছে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণদের ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে।

সমাজবাদী পার্টিও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একে দেশের যুবসমাজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে বর্ণনা করেছে। একইভাবে ন্যাশনাল কনফারেন্স-সহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন দল আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব), সিপিআই এবং সিপিআই (এমএল)-এর প্রতিনিধিরাও যন্তর-মন্তরে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে কংগ্রেসের অবস্থানে। শুরুতে দলটি কিছুটা সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখলেও পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেণুগোপাল বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছে। একই সঙ্গে তিনি ওয়াংচুককে স্বাস্থ্যগত কারণে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলির এই ঐক্য কেবল একজন সমাজকর্মীর প্রতি সংহতি নয়, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যুবসমাজের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ারও চেষ্টা। দীর্ঘদিন পর এমন একটি ইস্যুতে বিভিন্ন মতাদর্শের বিরোধী দল একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় কেন্দ্রের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনের উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; বরং দেশের ছাত্র-যুবকদের ভবিষ্যৎ রক্ষার আন্দোলন। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন জানালেও আন্দোলনের লক্ষ্য অপরিবর্তিত—পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং দায় নির্ধারণ।

সরকার এখনও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। তবে আন্দোলনের ব্যাপ্তি এবং বিরোধী দলগুলির ক্রমবর্ধমান সমর্থন এই ইস্যুকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত করেছে। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে তাঁর অনশন অব্যাহত রয়েছে।