Home SportsFIFA 2026 দায় নিজের কাঁধে নিলেন টুখেল

দায় নিজের কাঁধে নিলেন টুখেল

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
15 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ১-০ এগিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ইংল্যান্ডের।
  • রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ার সিদ্ধান্তের দায় নিজের কাঁধে নিলেন কোচ থমাস টুখেল।
  • হ্যারি কেন বললেন, গোলের পর দল অতিরিক্ত পিছিয়ে যায়, সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
  • জুড বেলিংহ্যাম ম্যাচ শেষে ভ্যালেন্তিন বারকোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালেও শাস্তি পাননি।
  • লিওনেল স্কালোনি বললেন, প্রতিকূল অবস্থাতেই তাঁর দল সেরা ফুটবল খেলতে পারে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ মুহূর্তে ২-১ ব্যবধানে হেরে ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গের পর দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন প্রধান কোচ থমাস টুখেল। তাঁর স্বীকারোক্তি, দল ১-০ এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তের দায় কোচ হিসেবেই তাঁকেই নিতে হবে।

অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তখন মনে হচ্ছিল, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিদেশের মাটিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে তারা। কিন্তু শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেসের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের হেডে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে টুখেল বলেন, “আমরা পাঁচজনের রক্ষণে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কারণ মাঝের ফাঁকগুলো অনেক বড় হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা তখন আরও ঝুঁকি নিয়ে খেলতে শুরু করে। ওরা যেন হারানোর কিছু নেই—এই মানসিকতা নিয়ে খেলছিল। আর আমরা ঠিক উল্টোভাবে খেলছিলাম, যেন হারানোর ভয় আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয়, তার দায় অবশ্যই কোচের। সেটা আমারই দায়িত্ব।”

ইংল্যান্ড বারবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এটি কি মানসিক দুর্বলতা? এই প্রশ্নে টুখেল বলেন, “আমি এটাকে ইংল্যান্ডের কোনও অভিশাপ বা জাতীয় মানসিকতার সমস্যা বলে মনে করি না। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কোচ, বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অধীনে এমন ঘটনা ঘটেছে।”

তাঁর মতে, আসল সমস্যা ছিল দল আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখতে পারেনি। “আমরা কোনও পর্যায়েই সক্রিয় থাকতে পারিনি। এখন অনেকেই বলবেন, অন্য সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো। কিন্তু মাঠে সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমারই ছিল।”

তবে নিজের দলের লড়াই নিয়ে সন্তুষ্ট টুখেল। “এই মুহূর্তে কোনও আফসোস নেই। ছেলেরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা ১-০ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই হয়তো আমাদের সেরা ম্যাচ ছিল। শুধু শেষ পর্যন্ত ফলটা ধরে রাখতে পারিনি।”

পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের পতনের চিত্র স্পষ্ট করে। গর্ডনের গোলের পর থেকে শেষ গোল খাওয়া পর্যন্ত সময়ে ইংল্যান্ডের বল দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। সেই সময় প্রায় একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

অধিনায়ক হ্যারি কেনও হতাশা লুকোতে পারেননি। তিনি বলেন, “ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক—সবাইয়ের জন্যই খারাপ লাগছে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১-০ এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা শুধু ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই স্তরে সেটা যথেষ্ট নয়।”

কেনের কথায়, “ওরা আরও বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণে উঠছিল। আমরা শুধু প্রতিরোধ করছিলাম। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটা আর সম্ভব হয়নি।”

ম্যাচ শেষে উত্তেজনাও ছড়ায়। ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামকে আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড় ভ্যালেন্তিন বারকোর মাথার পিছনে আঘাত করতে দেখা যায়। পরে সতীর্থরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস মাঠে “লাস মালভিনাস আর্জেন্টিনার” লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন। এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।

জয়সূচক গোলদাতা লাউতারো মার্তিনেস বলেন, “ইংল্যান্ড প্রায় ৬০ মিনিট আমাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু গোল করার পর তারা অনেকটা পিছিয়ে যায়। তখন আমরা ধীরে ধীরে বল ঘোরানোর সুযোগ পাই এবং পুরো মাঠ ব্যবহার করতে পারি।”

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “এই দল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে ভালো ফুটবল খেলে। আমরা কঠিন অবস্থায় ছিলাম, কিন্তু হাল ছাড়িনি। ছয়-সাতটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বল জালে যাচ্ছিল না। তারপরও ছেলেরা লড়াই চালিয়ে গেছে। ওরা গোল করার পরই আমরা প্রমাণ করেছি, আমাদের কাছে ফুটবল শুধু কৌশল নয়, এর চেয়েও অনেক বড় কিছু।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles