হাইলাইটস:

  • গ্রাহাম স্টেইন্স হত্যা মামলায় দণ্ডিত দারা সিংহের সাজা মকুবের আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ।
  • ২৬ বছর কারাবাসের পর আগাম মুক্তির আবেদন করেছেন দারা সিংহ।
  • ওডিশার সাজা পর্যালোচনা কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা সুপ্রিম কোর্টের।
  • ১৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য।
  • এখনও দারা সিংহের মুক্তির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ওডিশা সরকার।

বাংলাস্ফিয়ার: গ্রাহাম স্টেইন্স ও তাঁর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার বহুচর্চিত মামলায় দণ্ডিত দারা সিংহের আগাম মুক্তির আবেদন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ ওডিশা সরকারকে জানিয়ে দেয়, এক মাসের মধ্যে দারা সিংহের সাজা মকুবের আবেদন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৯ আগস্ট।

দারা সিংহ ইতিমধ্যেই প্রায় ২৬ বছর কারাবাস কাটিয়েছেন। সেই ভিত্তিতেই তিনি আগাম মুক্তি বা রেমিশন-এর আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন কারাবাসের পর প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর আবেদন বিবেচনা করা উচিত।

মঙ্গলবার শুনানিতে ওডিশা সরকারের পক্ষে আইনজীবী পি. ভি. যোগেশ্বরন আদালতকে জানান, রাজ্যের সাজা পর্যালোচনা কমিটি এখনও কিছু প্রয়োজনীয় নথির অপেক্ষায় রয়েছে। সেই নথি হাতে পেলেই আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

এই বক্তব্যের পর আদালত জানায়, তারা মামলাটি ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি রাখছে। তবে তার আগেই কমিটি যেন সিদ্ধান্ত নেয়, সেই প্রত্যাশা আদালতের। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা আশা করছি, এর মধ্যে কমিটি আবেদন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট ওডিশা সরকারকে একাধিকবার দারা সিংহের আবেদন বিবেচনার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি ফের আদালতে ওঠে।

১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে ওডিশার কেওনঝর জেলার মনোহরপুরে অস্ট্রেলীয় মিশনারি গ্রাহাম স্টেইন্স এবং তাঁর দুই ছেলে—ফিলিপ (১০) ও টিমোথি (৬)—একটি গাড়ির ভিতরে ঘুমিয়ে থাকার সময় আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়। মাঝরাতে দারা সিং-এর নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা গাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায় এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। জলন্ত গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্টেইনস ও তাঁর দুই সন্তান। জীবন্ত পুড়ে গাড়ির ভেতরেই মৃত্যু হয় বাবা ও তাঁর দুই নিষ্পাপ ছেলের। ঘটনাটি দেশ-বিদেশে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে দারা সিংহকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেতা ছিলেন দারা সিংহ (আসল নাম রবীন্দ্র কুমার পাল), যিনি বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তিনি গা ঢাকা দিলেও ২০০০ সালের মে মাসে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জঙ্গল থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রথমে দারা সিংহের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলেও পরে ওডিশা হাইকোর্ট তা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টও সেই সাজা বহাল রাখে। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করেছিল, ধর্মান্তরণ রোধের নামে এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এখন প্রশ্ন একটাই—২৬ বছরের কারাবাসের পর দারা সিংহ কি আগাম মুক্তির সুযোগ পাবেন? সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ওডিশা সরকারের সাজা পর্যালোচনা কমিটির ওপর নির্ভর করছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আর বিলম্ব নয়; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সরকারকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। আগামী ১৯ আগস্ট আদালতে সেই সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।