Home খবর অপারেশন হার্ড বলে ফাঁস ভিসা জালিয়াতি

অপারেশন হার্ড বলে ফাঁস ভিসা জালিয়াতি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
4 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • অপারেশন ‘হার্ড বল’-এ গ্রেফতার ১৫ জন আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।
  • তিনটি ভারত-সংযুক্ত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
  • অভিযোগ, ভারতে বসেই ছাত্র ও কর্মভিসার যোগ্য প্রার্থীদের টার্গেট করে অপরাধচক্রে নিয়োগ করা হতো।
  • খুন, তোলাবাজি, মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ।
  • বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আমেরিকায় নতুন করে বিতর্ক শুরু।

বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকায় ভারত-সংযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ১৫ জন অভিযুক্ত গ্রেফতারের সময় আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আদালতে দাখিল হওয়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ভগবানপুরিয়া অপরাধচক্র ভারতে বসেই এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করত, যারা ছাত্র বা বিদেশি কর্মভিসার জন্য আবেদন করতে সক্ষম। পরে সেই বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকেই অপরাধচক্রে সদস্য ঢোকানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসন এবং বৈধ ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তিন চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কয়েক দিন আগে মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র প্রকাশ করে। সেখানে বিষ্ণোই, ভগবানপুরিয়া এবং ধান্ডা—এই তিনটি ভারত-সংযুক্ত সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কগুলি আমেরিকা, কানাডা এবং ভারতে বিস্তৃত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে খুন, খুনের ষড়যন্ত্র, তোলাবাজি, মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবসা, অর্থ পাচার এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি উঠেছে ভগবানপুরিয়া চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সংগঠনটির নিয়োগকারীরা ভারতে এমন যুবকদের খুঁজে বের করত, যাদের বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের জন্য ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমেরিকায় পৌঁছানোর পর তাদের অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। ফলে বৈধ অভিবাসনের সুযোগকে সংগঠিত অপরাধের স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ সামনে এসেছে।

বৈধ নথির আড়ালে সন্দেহাতীত প্রবেশ

মার্কিন তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের কৌশলের ফলে অপরাধচক্র সহজেই বিদেশে নিজেদের সদস্যসংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়। বৈধ নথি নিয়ে দেশে প্রবেশ করার কারণে প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহও তৈরি হয় না। পরে তারা অপরাধচক্রের নির্দেশে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের অবৈধভাবে আমেরিকায় থাকার তথ্যও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থেকে গিয়েছিলেন, আবার কেউ অন্য উপায়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে যে সংগঠিত অপরাধচক্র কেবল সীমান্তের দুর্বলতাকেই নয়, অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ফাঁকও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

এই ঘটনায় আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নতুন এই তথ্য সেই অবস্থানকে আরও জোরালো করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, সংগঠিত অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গোটা ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক ছাত্র-সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয়। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ছাত্র, গবেষক এবং দক্ষ কর্মী বৈধ উপায়ে আমেরিকায় গিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কয়েকটি অপরাধচক্রের কার্যকলাপের জন্য বৃহত্তর অভিবাসী সমাজকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ছাত্র ও কর্মভিসায় আমেরিকায় যাওয়ার প্রবণতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই কারণে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ছাত্র ও কর্মভিসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা দেখা যেতে পারে।

তদন্ত এখনও চলমান

তদন্ত এখনও চলমান। মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলির দাবি, তিনটি অপরাধচক্রের আর্থিক লেনদেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সদস্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভারত ও কানাডার সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গেও তথ্য বিনিময় চলছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন ‘হার্ড বল’ শুধু একটি অপরাধ দমন অভিযান নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতার পারস্পরিক সম্পর্কও সামনে এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্তের অগ্রগতি আমেরিকার অভিবাসন নীতি এবং ভারত-আমেরিকা নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles