এশিয়ান গেমস মঞ্চে টেকবলের অলিম্পিক স্বপ্ন

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: মাঠের ফুটবল একটি বাঁকা টেবিলের দুই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
- হাত ব্যবহার করা যাবে না, বল একই শরীরের অংশ দিয়ে পরপর দু’বার ছোঁয়া যাবে না, আর তিন স্পর্শের মধ্যে প্রতিপক্ষের দিকে ফেরাতে হবে।
- এই নিয়মের টেকবল ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম এশিয়ান গেমস অধ্যায় শেষ করল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: মাঠের ফুটবল একটি বাঁকা টেবিলের দুই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। হাত ব্যবহার করা যাবে না, বল একই শরীরের অংশ দিয়ে পরপর দু’বার ছোঁয়া যাবে না, আর তিন স্পর্শের মধ্যে প্রতিপক্ষের দিকে ফেরাতে হবে। এই নিয়মের টেকবল ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম এশিয়ান গেমস অধ্যায় শেষ করল। পাঁচ বিভাগের মধ্যে তিনটি সোনা জিতে নতুন খেলাটির প্রথম মহাদেশীয় শক্তি হিসেবে উঠে এল থাইল্যান্ড।
নাগোয়ার হিগাশি স্পোর্টস সেন্টারের দর্শকধারণ ক্ষমতা কয়েকশো মাত্র। কিন্তু টেকবলের আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এই ছোট মঞ্চের তাৎপর্য বড়। ২০১৪ সালে হাঙ্গেরিতে ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ-অনুশীলন থেকে খেলাটির ধারণা তৈরি হয়; ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এক দশকের মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, জাতীয় সংস্থা এবং এশিয়ান গেমসে পদক—বৃদ্ধির গতি তাই দ্রুত।
খেলাটি দেখতে টেবিল টেনিস ও ফুটবলের মিশ্রণ মনে হলেও টেবিলের বাঁক তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। বল কোথায় গিয়ে উঠবে, তা সমতল টেবিলের মতো সহজে অনুমান করা যায় না। মাথা, বুক, হাঁটু ও পা মিলিয়ে খেলোয়াড়কে বল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। জালের কাছে কাঁচি-কিকের মতো আক্রমণও দেখা যায়, তবে প্রতিপক্ষ বা টেবিল ছোঁয়ার বিরুদ্ধে নিয়ম রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় টেকবলের দ্রুত বিস্তারের একটি কারণ সেপাক টাকরোর দীর্ঘ ঐতিহ্য। ওই খেলাতেও পা, মাথা ও শরীর দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। থাই খেলোয়াড়েরা সেই দক্ষতা নতুন খেলায় স্থানান্তর করেছেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জুতাতিপ কুন্তাতং মাত্র ছয় বছর আগে টেকবল শুরু করেও এখন একক ও দ্বৈত—দুই বিভাগেই শীর্ষ পর্যায়ের নাম।
এশিয়ান গেমসে পুরুষ ও মহিলা একক, পুরুষ ও মহিলা দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত—মোট পাঁচটি পদক বিভাগ ছিল। থাইল্যান্ড তিনটি সোনা জেতে। দক্ষিণ কোরিয়ার লি জুন-সুক পুরুষ এককে সোনা পান। ইরাকসহ একাধিক দেশের খেলোয়াড় পদক জিতে দেখিয়েছেন, প্রতিযোগিতাটি এক বা দুই দেশের মধ্যে সীমিত হয়ে থাকেনি।
ভারতের কুইমসি ডি’সুজা মহিলা এককে পদকের খুব কাছে গিয়েছিলেন। গোষ্ঠীপর্বে জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে শীর্ষে থাকার পরে সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার ইমা সুমাইয়ার কাছে ১–২ ব্যবধানে হারেন। ব্রোঞ্জের ম্যাচেও জাপানের ইউইনা সাকামোতোর কাছে দুই সেটে হেরে চতুর্থ হন।
টেকবল কর্তারা এখন অলিম্পিক স্বীকৃতি চান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিচিত নাম কার্লেস পুয়োলের মতো প্রাক্তন তারকার সমর্থন খেলাটির প্রচার বাড়িয়েছে। কিন্তু জনপ্রিয় ভিডিয়ো, তারকা-দূত বা জাতীয় সংস্থার সংখ্যা অলিম্পিক অন্তর্ভুক্তির নিশ্চয়তা নয়।
বিশ্লেষণ: নতুন খেলার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা প্রথম বিস্ময়ের পরে শুরু হয়। বাঁকা টেবিল ও কসরত সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষণীয়; দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য নিয়মিত স্থানীয় প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষক, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং নারী–পুরুষের সমান সুযোগ প্রয়োজন। দামি বিশেষ টেবিলও দরিদ্র দেশের বিস্তারে বাধা হতে পারে।
এশিয়ান গেমসের অভিষেক টেকবলকে বৈধতা দিয়েছে, অলিম্পিকের টিকিট নয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বৈশ্বিক অংশগ্রহণ, প্রশাসন, ডোপ-বিরোধী ব্যবস্থা ও আয়োজনের খরচও বিচার করবে। আপাতত নিশ্চিত ফলটি হল—ফুটবলের কৌশল থেকে জন্মানো অনুশীলন আর নিছক প্রদর্শনী নেই; এশিয়ার খেলোয়াড়েরা এখন এর জন্য সরকারি পদক নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



