ফারিবার প্যাডেলে নির্বাসনের জবাব

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: এশিয়ান গেমসের মহিলা ব্যক্তিগত সময়-পরীক্ষায় সপ্তম স্থান সাধারণত প্রথম সারির শিরোনাম হয় না।
- আফগানিস্তানের ফারিবা হাশিমির ক্ষেত্রে ফলটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজের দেশে মেয়ে হয়ে সাইকেল চালাতে না-পারা, হামলা ও হুমকি, দেশত্যাগ এবং নির্বাসনে পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে…
- ২০ সেপ্টেম্বর ২৩ বছরের ফারিবা এশিয়ার সেরা প্রতিযোগীদের মধ্যে সপ্তম হয়ে সেই পথের নতুন মাইলফলক ছুঁলেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: এশিয়ান গেমসের মহিলা ব্যক্তিগত সময়-পরীক্ষায় সপ্তম স্থান সাধারণত প্রথম সারির শিরোনাম হয় না। আফগানিস্তানের ফারিবা হাশিমির ক্ষেত্রে ফলটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজের দেশে মেয়ে হয়ে সাইকেল চালাতে না-পারা, হামলা ও হুমকি, দেশত্যাগ এবং নির্বাসনে পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে ওঠার ইতিহাস। ২০ সেপ্টেম্বর ২৩ বছরের ফারিবা এশিয়ার সেরা প্রতিযোগীদের মধ্যে সপ্তম হয়ে সেই পথের নতুন মাইলফলক ছুঁলেন।
উত্তর আফগানিস্তানের ফারইয়াব প্রদেশে ফারিবা ও তাঁর বোন ইয়ুলদুজ যখন সাইকেল চালানো শুরু করেন, প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণ নেওয়া নিরাপদ ছিল না। চুল ও পরিচয় আড়াল করে ছেলেদের পোশাক পরে তাঁরা অনুশীলন করতেন। তবু স্থানীয় বিরোধিতা, হুমকি এবং শারীরিক আক্রমণ এড়ানো যায়নি। পরিবারের কাছ থেকেও শুরুতে সম্পূর্ণ সমর্থন পাননি তাঁরা।
২০২১ সালে তালিবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পরে দুই বোন দেশ ছাড়েন। তাঁদের ইতালিতে পৌঁছতে সাহায্য করেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট আলেসান্দ্রা কাপেলোত্তো। সেখানে নিরাপদে অনুশীলন এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নিরাপত্তা পেলেও নির্বাসনের মূল্য ছিল পরিবার, ভাষা ও পরিচিত জীবন থেকে বিচ্ছেদ।
২০২২ সালে সুইৎজারল্যান্ডে নির্বাসিত আফগান মহিলা সাইক্লিস্টদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ফারিবা খেতাব জেতেন। পরে পেশাদার দলে জায়গা পান। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে ফারিবা ও ইয়ুলদুজ আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা সড়ক-সাইক্লিস্ট হিসেবে অংশ নেন। অলিম্পিকের ফল পদকের কাছাকাছি ছিল না; তবু তাঁদের উপস্থিতিই এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব বহন করেছিল, যেখানে মেয়েদের ক্রীড়াজীবনের স্বাভাবিক পথ প্রায় বন্ধ।
নাগোয়ার সপ্তম স্থান সেই প্রতীকী পরিচয়ের বাইরে ফারিবার ক্রীড়া-উন্নতিরও প্রমাণ। ব্যক্তিগত সময়-পরীক্ষায় দলগত সহায়তা থাকে না; নির্দিষ্ট পথ একা দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হয়। এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা থেকে আসা সাইক্লিস্টদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম দশে থাকা তাঁর পেশাদার অগ্রগতিকে মাপার বাস্তব ফল।
ফারিবা এখন ইতালিতে থাকেন এবং ইউরোপীয় দলে প্রতিযোগিতা করেন। নিজের দেশে ফিরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই প্রত্যাবর্তনের সময় জানা নেই। জাতিসংঘের সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তালিবানের বিধিনিষেধে আফগানিস্তানের প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে। খেলাধুলায় বাধা সেই বৃহত্তর অধিকারহীনতারই একটি অংশ।
বিশ্লেষণ: ফারিবার গল্পকে শুধু অনুপ্রেরণার মসৃণ কাহিনি বানালে মূল অন্যায়টি আড়াল হয়। ছেলে সেজে প্রশিক্ষণ নেওয়া কোনও রোমাঞ্চকর কৌশল ছিল না; নারী হিসেবে দৃশ্যমান হওয়ার বিপদের প্রতিক্রিয়া ছিল। একজন খেলোয়াড় বিদেশে সুযোগ পেয়েছেন বলে আফগান মেয়েদের সমস্যার সমাধান হয়নি।
একই সঙ্গে তাঁকে শুধু রাজনৈতিক প্রতীক করাও ঠিক নয়। সপ্তম স্থান পরিশ্রম, শারীরিক ক্ষমতা ও কৌশলগত উন্নতির ক্রীড়া-ফল। ফারিবা যে বার্তা বহন করেন, তার বিশ্বাসযোগ্যতা পদক থেকে নয়—নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রতিযোগী হয়ে থাকার অধিকার দাবি থেকে আসে। তাঁর সবচেয়ে বড় জয় এখনও কোনও সমাপ্তি নয়; নিজের দেশে অন্য মেয়েদেরও একই রাস্তা ব্যবহার করতে দেওয়ার লড়াই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



