রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সরিয়ে নেওয়া হলো রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা PSO দের। এমনই অভিযোগ তৃণমূল শিবিরের। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের যুগ্ম সম্পাদক ডেরেক ও ব্রায়েন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, বুধবার বিকেলে ধর্মতলা থেকে সুবোধ মল্লিক স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তা নিরাপত্তার দায়িত্বে দেখা গেছে পুরনো পুলিশ কর্মীদের। কিন্তু সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ PSO দের সরিয়ে বিকল্প হিসেবে নতুন কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান সরকার।
বুধবার সন্ধাতেই লালবাজার থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ৬ জন PSO পদমর্যাদার আধিকারিককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। বুধবার সন্ধ্যা কেটে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেও দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন সেই আধিকারিকরা। সঙ্গে পুলিশের স্নিফার ডগ। ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি সেই আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে তাদের মধ্যে একজনকে ভিতরে ঢুকতে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হলেও দশ মিনিটের মধ্যে তাকেও বের করে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কোন PSO লাগবেনা। যদিও তার বাড়ির বাইরে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর জওয়ানরা বারবার টহল দিয়ে চলেছেন। কিন্তু ভিতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি কারোরই। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট পাঁচজন PSO ছিলেন, যার মধ্যে তিনজন ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বাসী এবং আস্থাভাজন। তাদের নিজেদের পুরনো ইউনিটে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। আর তাতেই বেজায় চটেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির যাবতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলেরই বেশ কয়েকজন যুবক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অত্যন্ত বিশ্বাসী এবং আস্থাভাজন এই যুবকরা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দু একজন পুলিশ। তৃণমূলের বর্ষিয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী নিতে অস্বীকার করেছেন। তার কারণ, এ বিষয়টা সম্পূর্ণ বিশ্বাস এবং আস্থার উপরে নির্ভরশীল। তার আস্থাভাজনদের সরিয়ে দেওয়াতে তিনি আর নিরাপত্তারক্ষী নিতে ইচ্ছুক নন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর বেলেঘাটার সংসদ কুনাল ঘোষ নিজে এই বিষয়টি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে উত্থাপন করেন। বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের পাঁচ বিধায়ক। কুনাল আবেদন করেছেন, পুলিশ প্রশাসন যাই করুক মুখ্যমন্ত্রী যেন সৌজন্যমূলকভাবে বিষয়টি পুনর বিবেচনা করেন যাতে ইতিবাচক সাড়া আসে।
শুধু নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ির উঠোনে একটি অস্থায়ী ভিউ কাটানো বসানো হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ইতিমধ্যেই বেলেঘাটার সাংসদ কুনাল ঘোষ কে ডিম ছুড়ে মারার মত ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় সর্বত্র তৃণমূলের নেতা কর্মীদের রাস্তায় দেখা গেলেই ডিম, পচা টমেটো এমনকি গোবর পর্যন্ত ছুড়ে মারার মত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে। এ জাতীয় কোন ঘটনার মুখোমুখি যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে না হতে হয়। সেজন্যই মূলত এই ভিউ কাটার এর বন্দোবস্ত। তাছাড়াও তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং ভিতরের গতিবিধি সরাসরি যাতে নজরে না আসে সে বিষয়টিও বিবেচনা করেছে রাজ্য সরকার। তবে এই সমগ্র ঘটনাকে পালাবদলের ফলে অবশ্যম্ভাবী প্রতিশোধ বলেই মনে করছে তৃণমূলের কালিঘাট শিবির। 