নির্দিষ্ট ওষুধে শূন্য মার্কিন শুল্কের সুযোগ, তালিকায় ভারত-সহ ২০ দেশ

যা জানা জরুরি
- নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রে আমেরিকায় শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্কের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত।
- নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এই তথ্য সামনে এসেছে।
- তবে এই সুবিধাকে ভারতের সমস্ত ওষুধ রফতানির জন্য সার্বিক শুল্কছাড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রে আমেরিকায় শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্কের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত। নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এই তথ্য সামনে এসেছে। তবে এই সুবিধাকে ভারতের সমস্ত ওষুধ রফতানির জন্য সার্বিক শুল্কছাড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্ক কাঠামোটি মার্কিন বাণিজ্য দফতরের। এর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ এপ্রিলের একটি ঘোষণার যোগসূত্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ওই দফতর থেকেই এসেছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন কোন পণ্য শূন্য শুল্কের আওতায় পড়বে, কবে থেকে ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং কী শর্ত মানতে হবে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখানে নেই।
ভারতের কাছে বিষয়টির তাৎপর্য রয়েছে। ভারতীয় সংস্থাগুলি আমেরিকার বাজারে জেনেরিক ওষুধ, ওষুধের সক্রিয় উপাদান বা এপিআই এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ করে। ফলে মার্কিন শুল্কনীতিতে পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকদের ব্যবসার হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত কোন পণ্যে ছাড় মিলবে এবং কোন পণ্যে বাড়তি শুল্ক বসবে, সেই বিভাজনটি ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বাণিজ্যিক মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
নতুন ব্যবস্থায় শূন্য শুল্কের প্রস্তাবিত সুবিধা সীমাবদ্ধ থাকবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে। সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় ভারতের নাম থাকার অর্থ, ভারতীয় পণ্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই ছাড়ের যোগ্য হতে পারে। কিন্তু একটি দেশের যোগ্যতা এবং সেই দেশ থেকে রফতানি হওয়া প্রতিটি পণ্যের যোগ্যতা এক বিষয় নয়। পণ্যভিত্তিক শর্তও বিচার্য।
পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার। ফলে শূন্য শুল্ক এবং উচ্চ শুল্কের খবরকে একই ধরনের সব ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া বিভ্রান্তিকর হবে। কোন শ্রেণির ওষুধ কোন ব্যবস্থার আওতায় থাকবে, তা চূড়ান্ত তালিকা ও সরকারি নির্দেশেই স্পষ্ট হতে পারে।
ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলিকে তাই সম্ভাব্য সুবিধার হিসাব করার আগে নিজেদের রফতানি পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস খতিয়ে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা, দেশের জন্য নির্ধারিত শর্ত এবং পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধানও যাচাই করা জরুরি। শুধুমাত্র ভারতের অন্তর্ভুক্তির খবরের ভিত্তিতে সমস্ত চালান শুল্কমুক্ত হবে বলে ধরে নিলে ব্যবসার পরিকল্পনায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
নির্বাচিত পণ্যে শূন্য শুল্ক কার্যকর হলে যোগ্য ভারতীয় রফতানিকারকদের মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে সুবিধা হতে পারে। আওতাভুক্ত ওষুধ ও উপাদানের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্কের বোঝা না পড়লে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে বাড়তি খরচও সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা থেকে এখনই সব ভারতীয় ওষুধের দাম কমবে, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।
চূড়ান্ত প্রভাব বোঝার জন্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ছাড়ের তালিকায় ঠিক কোন পণ্য থাকবে? ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার তারিখ কী? লাইসেন্সের কোন শর্ত প্রযোজ্য হবে? নির্দিষ্ট দেশ অথবা পণ্যের জন্য পৃথক বিধান থাকবে কি? এই বিষয়গুলি স্পষ্ট না হলে একই শিল্পের বিভিন্ন সংস্থা কতটা সুবিধা পাবে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে বলা কঠিন।
বিশেষত জেনেরিক ওষুধ, বিশেষায়িত ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানকে এক অভিন্ন শুল্কশ্রেণি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রদত্ত বিবরণে ভারতের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের গুরুত্বের কথা থাকলেও সব জেনেরিক পণ্য ছাড় পাবে বলে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে সমস্ত সক্রিয় উপাদান এই সুবিধার আওতাভুক্ত, এমন তথ্যও এখানে নেই।
আপাতত তাই ভারতের অন্তর্ভুক্তিকে নির্বাচিত রফতানির জন্য সম্ভাব্য স্বস্তি হিসেবেই দেখা যায়। সুযোগের প্রকৃত পরিধি নির্ধারণ করবে সরকারি পণ্যতালিকা ও শর্তাবলি। মার্কিন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়গুলি নিশ্চিত হওয়ার পরেই বোঝা যাবে, কোন সংস্থা ও কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্কনীতি কতটা কার্যকর সুবিধা এনে দেবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



