হাইলাইটস
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা আবেদন ফি বাতিল করল মার্কিন আদালত।
- ফেডারেল বিচারকের মতে, এই ফি কার্যত একটি বেআইনি কর (Tax) ছিল।
- আদালত জানায়, এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল প্রশাসনিক আইন ও মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী।
- গত বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিপুল ফি চালু করেছিল।
- রায়ের ফলে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন কর্মবাজারে প্রবেশের পথ কিছুটা সহজ হতে পারে।
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বিতর্কিত অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা দিল ফেডারেল আদালত। একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মার্কিন এক বিচারক ঘোষণা করেছেন, এইচ-১বি ভিসার আবেদনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত বার্ষিক ১ লক্ষ ডলারের ফি বেআইনি এবং তা কার্যকর করা যাবে না।
বিচারকের মতে, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ফি নয়, বরং কার্যত একটি করের সমতুল্য। অথচ মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়। ফলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত আইনি ভিত্তি হারায়।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেছিল। আগে যেখানে এই ধরনের আবেদনের জন্য কয়েক হাজার ডলার ব্যয় হতো, সেখানে নতুন নিয়মে আবেদনপ্রতি ১ লক্ষ ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হতো। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এর ফলে মার্কিন শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত হবে এবং দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে।
কিন্তু প্রযুক্তি শিল্প, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাদাররা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। এত বিপুল ফি আরোপ করলে দক্ষ কর্মী নিয়োগ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং মার্কিন অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আদালতও রায়ে সেই উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিচারক বলেন, প্রশাসন কোনও পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছাড়াই এমন অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়েছে, যা ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে। পাশাপাশি সংবিধানের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কিত নীতিও এতে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এই রায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য। কারণ এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই ভারতীয়। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ ফি নীতি কার্যকর থাকলে নতুন নিয়োগ এবং ভিসা নবীকরণ দুটিই কঠিন হয়ে উঠত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ফি বাতিল করার ঘটনা নয়; এটি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন করসদৃশ আর্থিক বোঝা নাগরিক বা আবেদনকারীদের উপর চাপাতে পারে না।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আরও বড় সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবুও আপাতত এই রায়কে অভিবাসনপন্থী গোষ্ঠী, প্রযুক্তি শিল্প এবং আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের আশায় থাকা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।