হাইলাইটস
- তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২৩ জুন বিকেল ৪টায় বন্ধ করা হয় প্যারিসের আইফেল টাওয়ার।
- কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুনও একইভাবে আগেভাগে বন্ধ রাখা হতে পারে।
- টিকিট কাটা দর্শনার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
- ফ্রান্সজুড়ে দাবদাহের জেরে স্কুল বন্ধ, ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত এবং জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
- বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘর ল্যুভরও কয়েক দিনের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফ্রান্সে চলমান ভয়াবহ তাপপ্রবাহের প্রভাব এবার পড়ল দেশের সবচেয়ে পরিচিত পর্যটন আকর্ষণগুলির উপরেও। বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা আইফেল টাওয়ার মঙ্গলবার, ২৩ জুন, স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইফেল টাওয়ারের পরিচালন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দেওয়ায় দর্শনার্থী এবং কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে, বিশেষ করে জুনের মাঝামাঝি থেকে, আইফেল টাওয়ার সকাল ৯টা থেকে পরদিন রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেটি ব্যতিক্রমীভাবে বিকেল ৪টাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বুধবারও তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেদিনও আগেভাগে বন্ধ করার সম্ভাবনা প্রবল। যাঁরা ওই সময়ের জন্য টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। গত সপ্তাহ থেকে ফ্রান্স জুড়ে যে তীব্র দাবদাহ চলছে, তা ইতিমধ্যেই জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দেশের বহু অঞ্চলে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে, কিছু ট্রেন পরিষেবাও বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহ সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর গরমের পর্ব।
শুধু আইফেল টাওয়ারই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শকসমাগম হওয়া জাদুঘর ল্যুভর মিউজিয়ামও তাদের সময়সূচি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ল্যুভর বিকেল ৬টার পরিবর্তে বিকেল ৪টায় বন্ধ হয়ে যাবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, প্রচণ্ড গরমে ভবনের ভিতরে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। প্যারিসের আরেক জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ইংরেজি ভাষার ঐতিহাসিক বইয়ের দোকান শেক্সপিয়র অ্যান্ড কোম্পানি, বুধবার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে। দোকানটির সঙ্গে থাকা ক্যাফেটিও সেদিন খোলা হবে না। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, “চলমান চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে আমাদের কর্মী এবং দর্শনার্থীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত।”
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে শুধু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নয়, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিও এখন ক্রমশ এই আবহাওয়া সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করছে। প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ারের আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই পরিবর্তনেরই এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।