হাইলাইটস
- CBSE নবম শ্রেণি থেকে তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করেছে।
- তিনটির মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় ভাষা হতে হবে।
- এর আগে বোর্ডের খসড়া কাঠামোয় কিছু ক্ষেত্রে বেশি নমনীয়তার ইঙ্গিত ছিল বলে অভিযোগ।
- কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই সিদ্ধান্তকে CBSE-র ‘ইউ-টার্ন’ বা অবস্থান পরিবর্তন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
- বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।
সম্প্রতি CBSE-র নতুন ভাষানীতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত “CBSE 3-language rule for Class 9 defies earlier decision” শিরোনামের অর্থ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সমালোচকদের অভিযোগ হল—CBSE আগে যে অবস্থানের কথা বলেছিল বা যে ধরনের নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিল, এখন তার থেকে সরে এসে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে CBSE-র অধীন সমস্ত স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের তিনটি ভাষা (R1, R2 এবং R3) পড়তে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তিনটির মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় ভাষা হতে হবে। অর্থাৎ কোনও ছাত্র যদি ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষা শিখতে চায়, তাহলেও তাকে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা রাখতে হবে।
ধরা যাক, কোনও ছাত্র বর্তমানে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা পড়ছে। নতুন নিয়মে তাকে আরও একটি ভারতীয় ভাষা নিতে হবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে যেখানে ছাত্রছাত্রীরা আগে দুটি ভাষা নিয়েই পড়াশোনা চালাত, সেখানে এখন তৃতীয় ভাষা যোগ করতে হবে। এই কারণেই কিছু অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদ মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
CBSE অবশ্য বলছে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি। এটি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) এবং জাতীয় পাঠক্রম কাঠামো ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, বহু ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়বে এবং ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অন্য জায়গায়। কংগ্রেস নেতা Jairam Ramesh অভিযোগ করেছেন যে CBSE আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বা যে ধরনের কাঠামোর কথা জানিয়েছিল, সেখানে এত কঠোর বাধ্যবাধকতা ছিল না। তাঁর দাবি, বোর্ড কোনও স্পষ্ট একাডেমিক ব্যাখ্যা না দিয়েই অবস্থান বদলেছে। তিনি শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে এর জবাবদিহি দাবি করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, নবম শ্রেণিতে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভাষা বাধ্যতামূলক করলে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ছাত্রছাত্রী বিদেশি ভাষা বেছে নিয়েছে বা যেসব স্কুলে পর্যাপ্ত ভাষাশিক্ষক নেই, সেখানে বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে CBSE কিছুটা স্বস্তিও দিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষার (R3) জন্য দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এর মূল্যায়ন স্কুল স্তরেই হবে। অর্থাৎ তৃতীয় ভাষা পড়তে হবে ঠিকই, কিন্তু বোর্ড পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ থাকবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, CBSE স্বীকার করেছে যে সব স্কুলে প্রয়োজনীয় ভাষাশিক্ষক এখনও নেই। সেই কারণে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কিছু বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার, CBSE এবং NCERT-এর কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। আদালত জানতে চেয়েছে, এত বড় পরিবর্তন কার্যকর করার জন্য বোর্ড কতটা প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না। মামলার পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসে হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, “CBSE 3-language rule for Class 9 defies earlier decision” কথাটির সহজ অর্থ হল—সমালোচকদের মতে CBSE আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ভাষানীতি গ্রহণ করেছে এবং সেই কারণেই একে ‘ইউ-টার্ন’ বা অবস্থান পরিবর্তন বলা হচ্ছে। তবে CBSE-র বক্তব্য, এটি আসলে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন মাত্র। এখন শেষ কথা বলবে সুপ্রিম কোর্ট, যার রায়ের ওপরই নির্ভর করবে এই নতুন ভাষানীতির ভবিষ্যৎ।