খবর

চোদ্দো বছর পর নতুন তদন্তের দরজা, কিন্তু খালাস পাওয়া ব্যক্তিকে ফের কাঠগড়ায় নয়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কর্ণাটকের ধর্মস্থলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রায় চোদ্দো বছর পরে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • ২১ সেপ্টেম্বরের রায়ে রাজ্যকে বিশেষ তদন্তদল গড়তে বলা হয়েছে; ২২ সেপ্টেম্বর রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়।
  • স্থানীয় পুলিশ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং সিবিআই—আগের কোনও তদন্তে যুক্ত অফিসার এই দলে থাকতে পারবেন না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কর্ণাটকের ধর্মস্থলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রায় চোদ্দো বছর পরে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২১ সেপ্টেম্বরের রায়ে রাজ্যকে বিশেষ তদন্তদল গড়তে বলা হয়েছে; ২২ সেপ্টেম্বর রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়। স্থানীয় পুলিশ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং সিবিআই—আগের কোনও তদন্তে যুক্ত অফিসার এই দলে থাকতে পারবেন না। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তবে নতুন তদন্তের সুযোগ মানে আগের একমাত্র অভিযুক্তের খালাস বাতিল নয়।

ঘটনাটি ২০১২ সালের অক্টোবরের। সতেরো বছরের ওই ছাত্রী ৯ অক্টোবর পড়াশোনা করতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন ধর্মস্থলা এলাকায় তার দেহ উদ্ধার হয়। এই প্রতিবেদনে যৌন অপরাধের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তদন্তের পরে সন্তোষ রাও নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলে। কিন্তু ১৬ জুন ২০২৩ বিচারিক আদালত তাঁকে খালাস দেয়। অভিযোগের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করার মতো প্রমাণ প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি বলে আদালতের সিদ্ধান্ত ছিল।

পরিবার প্রথম থেকেই তদন্তের গতিপথ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, অন্য সম্ভাব্য সূত্রগুলি যথাযথ পরীক্ষা করা হয়নি। নতুন তদন্তের আবেদন করেও কর্নাটক হাইকোর্টে স্বস্তি মেলেনি। ৩০ আগস্ট ২০২৪ হাইকোর্ট পরিবারের আবেদন খারিজ করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মায়ের আবেদনেই সর্বোচ্চ আদালতের বর্তমান হস্তক্ষেপ। ফলে খবরটির নতুন অংশ অপরাধের পুরনো বিবরণ নয়; দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অনুসন্ধান আবার শুরু করার কার্যকর নির্দেশ।

বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ আগের তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ ও মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছে। তদন্তে ত্রুটি ছিল—এটুকু বলেই আদালত থামেনি। সময় পেরিয়েছে বলে আর অনুসন্ধানের উপকার হবে না, হাইকোর্টের এই যুক্তিও গ্রহণ করেনি। বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পোশাক থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নমুনা এখনও তুলনা করা যেতে পারে।

আগের বিচারে উঠে আসা ঘাটতির মধ্যে ছিল নমুনা সংরক্ষণ ও পরীক্ষা, সিসিটিভি-সংক্রান্ত অনুসন্ধান, মোবাইল টাওয়ারের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন দল কী উদ্ধার করতে পারবে, এখনই জানা নেই। ডিএনএ তুলনার সম্ভাবনা থাকাও অপরাধী শনাক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। উপযুক্ত তুলনামূলক নমুনা, গ্রহণযোগ্য পরীক্ষাপদ্ধতি এবং অন্য প্রমাণের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য প্রয়োজন হবে।

রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা সন্তোষ রাওকে ঘিরে। ইতিমধ্যে বিচার হয়ে খালাস পাওয়ায় তাঁকে এই ঘটনায় আবার তদন্ত বা বিচারের মুখে না-ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে রায়কে প্রাথমিক মতামতও মনে করতে নিষেধ করেছে আদালত। পরিবারের সন্দেহ, জনমতের অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—এই তিনটি স্তর তাই পৃথক থাকছে। নতুন দলকে পুরনো সিদ্ধান্তের অনুগামী না-হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্লেষণ

এই নির্দেশের তাৎপর্য দুদিকে। ব্যর্থ তদন্তের কারণে একজন নিহত কিশোরীর পরিবারকে স্থায়ীভাবে উত্তরহীন রাখা যায় না। আবার সেই ব্যর্থতা ঢাকতে খালাস পাওয়া মানুষকে অনন্তকাল সন্দেহের মধ্যে রাখাও ন্যায়বিচার নয়। আদালত নতুন অনুসন্ধান অনুমোদন করে দ্বিতীয় সীমাটিও বজায় রেখেছে। তদন্তের পুরনো ত্রুটির সমালোচনাকে কোনও নতুন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিকে মর্যাদা দেওয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য অভিযুক্তের ন্যায্য প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকারও বজায় রাখতে হবে; একটি অন্যটির বিকল্প হতে পারে না।

তিন মাসের সময়সীমা প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে পারে, কিন্তু এত পুরনো মামলার বাস্তব অসুবিধা মুছে দেবে না। সাক্ষীর স্মৃতি, নথির অবস্থা এবং পরীক্ষাযোগ্য নমুনার মান নিয়ে নতুন দলকে সৎ থাকতে হবে। দ্রুত কোনও নাম ঘোষণা করার চেয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্তের যাচাইযোগ্য ভিত্তি বেশি জরুরি। পুরনো তদন্তকারীদের বাদ দেওয়ায় পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে; সেটি কাজে লাগল কি না বোঝা যাবে তদন্তের ফল আদালতের পরীক্ষায় দাঁড়ানোর পরে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles