সিনেমা হলে চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি, প্রতিবাদে মারধর স্বামীকেও; গ্রেফতার ছয়

যা জানা জরুরি
- স্বামী ও বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন এক চিকিৎসক।
- প্রতিবাদ করায় তাঁর স্বামী ও সঙ্গীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
- রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলকাতার একটি শপিং মলের প্রেক্ষাগৃহে ঘটনাটি ঘটে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
স্বামী ও বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন এক চিকিৎসক। প্রতিবাদ করায় তাঁর স্বামী ও সঙ্গীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলকাতার একটি শপিং মলের প্রেক্ষাগৃহে ঘটনাটি ঘটে। চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে ছ’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্তেরা পুলিশের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগ, ছবি চলাকালীন ওই চিকিৎসক ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশে বারবার অশ্লীল মন্তব্য এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করছিলেন ছ’জন। চিকিৎসক ও তাঁর সঙ্গীরা এর প্রতিবাদ করেন। তখনই তাঁদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ করেন প্রেক্ষাগৃহের কর্তৃপক্ষ। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হলে গিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। গালিগালাজও করেন বলে অভিযোগ। অন্য দর্শকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এর পর ছ’জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে একজন নিজেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে দাবি করেন। গ্রেফতার করা হলে তার ফল ভাল হবে না বলেও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ছ’জনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাধা দেওয়া, আঘাত করা, মহিলার মর্যাদাহানিকর কথা বা অঙ্গভঙ্গি এবং শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে তুলে হেফাজত চায় পুলিশ।
ঘটনাস্থল কসবার অ্যাক্রোপলিস শপিং মলের সিনেপোলিস। সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন বাঁশদ্রোণীর ওই চিকিৎসক দম্পতি এবং তাঁদের পরিচিত আর এক দম্পতি। ওই সংবাদপত্র জানিয়েছে, ধৃতেরা পরে জামিন পান।
চিকিৎসকের অভিযোগ, হলে ঢোকার পর থেকেই তাঁদের উদ্দেশে কটূক্তি করা হচ্ছিল। অভিযুক্তেরা সামনে এসে বসেন এবং অশালীন আচরণ করতে থাকেন। বিরতির পরে কটূক্তি আরও বাড়ে। গুটখা খেয়ে থুতু ফেলারও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, একজন তাঁকে অর্থ দিয়ে কিনে নেওয়ার কথাও বলেন। চিকিৎসকের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা মহিলারা পরে উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, মূল অভিযোগের মোকাবিলায় এই পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগকারী দম্পতির দাবি, তাঁদের উত্ত্যক্ত করা যুবকেরা তখন মত্ত অবস্থায় ছিলেন।
অভিযুক্তেরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, নিজেদের মধ্যে ছবি নিয়েই আলোচনা করছিলেন; দুই মহিলাকে উদ্দেশ করে কোনও মন্তব্য করেননি। চিকিৎসকের স্বামী প্রেক্ষাগৃহের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, হলের ভিতরে ধূমপান চলছিল এবং সেখানে নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না।
অ্যাক্রোপলিসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়েই কসবা থানায় জানানো হয়। মলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শিবসাগর শ’ ঘটনার নিন্দা করে জানিয়েছেন, দর্শকদের নিরাপত্তাই তাঁদের অগ্রাধিকার। ফলে অভিযোগকারী দম্পতির বক্তব্যের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াতেও হলের ভিতরের পরিস্থিতি এবং খবর পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
এই ঘটনার সূত্রে দর্শকদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি কয়েকটি স্তরে বিবেচনার দাবি রাখে। প্রেক্ষাগৃহে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লে দর্শক কার কাছে অভিযোগ জানাবেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কে হস্তক্ষেপ করবেন এবং প্রয়োজনে পুলিশ ডাকার দায়িত্ব কে নেবেন—এই ব্যবস্থাগুলি স্পষ্ট থাকা জরুরি। নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের পাশাপাশি দর্শকদের অভিযোগ জানানোর সহজ সুযোগও প্রয়োজন। দর্শককে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হলে বিনোদনের পরিসরের স্বাভাবিক পরিবেশই নষ্ট হয়; দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ তাই কারও নেই।
অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া পৃথক বিষয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, উপস্থিত কর্মীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ মিলিয়েই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া সম্ভব। কোনও অভিযুক্তের শিক্ষাগত পরিচয় দিয়ে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হয় না। একইভাবে, প্রতিবাদকারী দর্শকের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। তদন্তের যথার্থতা এবং জনপরিসরে নিরাপত্তা—দু’টি বিষয়েই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



