কিমের সঙ্গে ফের ট্রাম্প

যা জানা জরুরি
- বছর শেষে বৈঠকের ইঙ্গিত, উত্তর কোরিয়ার হাতে ‘৫৭ পরমাণু অস্ত্র’ দাবি ট্রাম্পের ওয়াশিংটন: ফের মুখোমুখি হতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন।
- উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
- একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পিয়ংইয়ংয়ের হাতে বর্তমানে রয়েছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পরমাণু অস্ত্র।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বছর শেষে বৈঠকের ইঙ্গিত, উত্তর কোরিয়ার হাতে ‘৫৭ পরমাণু অস্ত্র’ দাবি ট্রাম্পের
ওয়াশিংটন: ফের মুখোমুখি হতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পিয়ংইয়ংয়ের হাতে বর্তমানে রয়েছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পরমাণু অস্ত্র। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রভান্ডার নিয়ে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা বিরল।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে তাঁর ফের সাক্ষাৎ হতে পারে কি না। সংক্ষিপ্ত জবাব, “হ্যাঁ, হবে।” তবে কোথায় বা ঠিক কবে সেই বৈঠক হতে পারে, তা জানাননি তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, নভেম্বর মাসে চিনের শেনঝেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের সময় দুই নেতার বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা হতে পারে।
কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককেও ইতিবাচক হিসেবেই তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আমি কিম জং উনকে খুব ভালভাবে চিনি।” আমেরিকায় ‘বুদ্ধিমান’ প্রেসিডেন্ট থাকলে কিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রভান্ডার নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, কিমের হাতে রয়েছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র। পিয়ংইয়ংকে কখনওই এই অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ৫৭ সংখ্যাটির উৎস বা হিসাবের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনও ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকাও আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করে না। স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের হাতে প্রায় ৫০ থেকে ৯০টি পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে। সেই হিসেবে ট্রাম্পের দেওয়া সংখ্যাটি ওই অনুমানের মধ্যেই পড়ে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়ার সময়সীমা কমানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের যুক্তি, উত্তর কোরিয়া যখন তাঁর প্রতি সংযত ও সম্মানজনক আচরণ করছে, তখন এমন মহড়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছে অপ্রয়োজনীয় শত্রুতার বার্তা পাঠাতে পারে।
কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে তিন বার মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা—২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এবং ওই বছরই দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিক অঞ্চলে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই আলোচনা কোনও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছয়নি।
এ বারও পথটা যে মসৃণ, তা নয়। কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি দাবি করেছেন, দুই দেশের নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ব্যক্তিগত স্তরে ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের সুসম্পর্ক থাকলেও উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের শর্তে আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
অর্থাৎ, ওয়াশিংটনে বৈঠকের দরজা খোলার ইঙ্গিত মিললেও পিয়ংইয়ংয়ের তরফে এখনও আসেনি সবুজ সংকেত। ট্রাম্পের ‘হ্যাঁ’ তাই আপাতত একতরফা আশাবাদ—কিমের সম্মতি মিললেই কেবল তা বাস্তব বৈঠকের রূপ পাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



