নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা, ইজরায়েলের ভোটে সমীক্ষায় এগিয়ে নতুন দল

যা জানা জরুরি
- প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশারকে ঘিরে সমর্থন বাড়ছে; অন্তহীন যুদ্ধের বিরোধী হলেও প্যালেস্তাইন ও ইরান প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সঙ্গে অবস্থানের মিল ইজরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর…
- তার আগে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সারিতে উঠে এসেছে মাত্র এক বছরের পুরনো একটি দল।
- ইজরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জনমত সমীক্ষায় এই দলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থনের আভাস মিলেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশারকে ঘিরে সমর্থন বাড়ছে; অন্তহীন যুদ্ধের বিরোধী হলেও প্যালেস্তাইন ও ইরান প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সঙ্গে অবস্থানের মিল
ইজরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সংসদীয় নির্বাচন। তার আগে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সারিতে উঠে এসেছে মাত্র এক বছরের পুরনো একটি দল। নাম ইয়াশার—হিব্রু ভাষায় যার অর্থ ‘সোজা’। ইজরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জনমত সমীক্ষায় এই দলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থনের আভাস মিলেছে। কোনও কোনও সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুডকেও পিছনে ফেলেছে ইয়াশার।
ইজরায়েলের সংসদ নেসেটের মোট আসন ১২০টি। অধিকাংশ সমীক্ষার পূর্বাভাসে অন্তত ২০টি আসন নিয়ে এগিয়ে ইয়াশার, পিছনে লিকুড। চ্যানেল ১২ নিউজের সমীক্ষায় ইয়াশার পেতে পারে ২৩টি আসন, লিকুড ২০টি। চ্যানেল ১৩ নিউজের হিসাবে দু’দলের সম্ভাব্য আসন যথাক্রমে ২২ ও ১৯। আবার ‘মারিভ’-এ প্রকাশিত সমীক্ষায় ইয়াশারকে ২৫টি এবং লিকুডকে ১৯টি আসন দেওয়া হয়েছে। কোনও সমীক্ষাতেই অবশ্য কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। তবে প্রধান দলগুলির মধ্যে ধারাবাহিক ভাবে সামনের সারিতে রয়েছে ইয়াশার।
মধ্যপন্থী এই দলের নেতা গাদি আইজেনকট একসময় নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। এখন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। গত ৩০ জুন প্রথম নির্বাচনী সভা করেছিলেন আইজেনকট। তিন মাসও পেরোয়নি, জনপ্রিয়তায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমকক্ষ হয়ে উঠেছেন।
ইয়াশার ও তার নেতার প্রতি ক্রমবর্ধমান সমর্থনের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তৈরি হওয়া জনমতের। ওই হামলা এবং তার সঙ্গে জড়িত প্রশ্নগুলি এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আইজেনকটের প্রতিশ্রুতি, যুদ্ধ চলবে সুনির্দিষ্ট রণকৌশল মেনে, অন্তহীন ভাবে নয়। তবে প্যালেস্তাইন প্রশ্নে পৃথক দু’টি রাষ্ট্র গড়ার মাধ্যমে সমাধান এবং ইরান সম্পর্কে তাঁর অবস্থান ইজরায়েলের প্রচলিত জনমনোভাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ; এসব বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর অবস্থানের মিল রয়েছে।
অন্য দিকে, একের পর এক সমস্যায় আকর্ষণ হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগ, হামাসের হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েও অবহেলার অভিযোগ, কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং জনসমর্থনের পতন—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে তাঁর উপর।
কেন বাড়ছে ইয়াশারের সমর্থন? মিতভিম ইনস্টিটিউটের নীতিবিষয়ক গবেষক ডালিয়া শেইন্ডলিনের মতে, এর মূল চালিকাশক্তি একটি নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠী। ইজরায়েলের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রচারে রণকৌশল এবং জনমত নিয়ে কাজ করেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, “এই ভোটাররা মধ্যপন্থার দিকে ঝোঁক থাকা দক্ষিণপন্থী। নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেন, দেশপ্রেমিকও। কিন্তু ইজরায়েলের বিচারে তাঁরা অতি দক্ষিণপন্থী বা চরমপন্থী নন। ২০২৩–২৪ সালে তাঁরা গ্যান্টজকে সমর্থন করেছিলেন। ২০২৫ সালে সমর্থন করেন বেনেটকে। তার পরে আইজেনকটকে তাঁদের মনে হয়েছে বিশ্বাসযোগ্য, নতুন মুখ—যিনি জিততে পারেন। তাই তাঁরা তাঁর দিকে সরে গিয়েছেন।”
শেইন্ডলিনের মতে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইজেনকটের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও। তিনি একজন আস্থাভাজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান; সন্তান ও স্বজন হারানোর শোক বহন করছেন। নেতানিয়াহুর বিপরীতে তাঁকে সোজাসাপ্টা মানুষ বলে মনে হয়—অনেকটা তাঁর দলের নামের মতোই।
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিশন গড়ার প্রতিশ্রুতিই তাঁর জনপ্রিয়তার একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করেন শেইন্ডলিন। কারণ, অধিকাংশ দলই প্রায় একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
যুদ্ধে সন্তান হারানো আইজেনকট ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ৪১ বছর কাজ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেতানিয়াহুর যে পরিচিতি ও প্রভাব রয়েছে, বিশেষত বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাবার্তায় তিনি যে দক্ষতা দেখান, সেখানে এখনও পিছিয়ে আইজেনকট।
তাঁকে ‘দাহিয়ে সামরিক নীতি’র প্রণেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই নীতিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে অসামরিক মানুষ ও পরিকাঠামোকে নিশানা করার কথা বলা হয়। এর জন্য অতীতেও আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে ইজরায়েল।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইজেনকট নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে শেইন্ডলিন বলেন, “চাইলে তিনি তা পারেন। নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হলে তাঁকে ঘিরে বিপুল প্রত্যাশাও তৈরি হবে। কিন্তু প্যালেস্তিনীয়দের বিষয়ে তাঁকে এমন কিছু পদক্ষেপ করতে হবে, যার জন্য দেশের ভিতরে সমালোচনার মুখে পড়বেন। সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কী ভাবে তার মোকাবিলা করতে হয়, সেটাও তাঁকে শিখতে হবে।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



