শ্চিমবঙ্গে শূন্য ছাত্রভর্তির ৪,১৩৩টি স্কুল পরিদর্শন করে সেগুলির ভবন অন্য জনস্বার্থের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, স্কুলগুলি পুনরুজ্জীবনের পথও খোলা থাকবে। তবে ছাত্র নেই এমন বিদ্যালয়ের নথিতে মোট ১৯,৫০২ শিক্ষক যুক্ত থাকার তথ্য প্রশাসনিক যাচাইয়ের বড় প্রশ্ন তুলেছে।

পরিদর্শনে পাওয়া ৪,১৩৩টির মধ্যে প্রায় ৪০০টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত; বাকিগুলি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সব বেসরকারি স্কুল যে সরকারি বেতন পায়, তা নয়। ফলে ১৯,৫০২ শিক্ষককে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্ত তথ্য থেকে আসে না। কোন শ্রেণির স্কুলে কত শিক্ষক, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ প্রয়োজন।

বিদ্যালয়গুলিকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন বা ইউডাইসের তথ্য সংশোধন করতে বলা হয়েছে। তথ্য হালনাগাদ না-করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পোর্টালে তালিকাভুক্ত থাকতে দেওয়া হবে না। পুরনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকসংখ্যা রেখে দিলে রাজ্যের স্কুল, শিক্ষক ও অনুদানের পরিকল্পনা ভুল হয়ে যায়।

প্রায় ৪০০ সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ছাত্রশূন্য স্কুলের ভবন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গ্রন্থাগার বা অন্য জনসেবায় ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। কোনও নির্দিষ্ট ব্যবহার এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জমির দলিল বা দাতার শর্তে শুধু শিক্ষার কাজে ব্যবহারের বিধান থাকলে আইনগত সমস্যাও হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের কাছাকাছি শিক্ষক-ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তর শুরু হয়েছে। এটি নতুন নিয়োগ ছাড়াই বৈষম্য কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু বিষয়, ভাষা, বিদ্যালয়ের স্তর ও যাতায়াতের দূরত্ব না-মিলিয়ে বদলি করলে এক জায়গার সমস্যা অন্য জায়গায় যাবে।

ছাত্রসংখ্যা শূন্য হওয়ার কারণও এক নয়। কোথাও জনসংখ্যা কমেছে, পরিবার শহরে চলে গেছে বা আশপাশে ভালো যোগাযোগের অন্য স্কুল হয়েছে। কোথাও শিক্ষক-শূন্যতা, ভগ্ন ভবন, শৌচাগার ও পানীয় জলের অভাব অথবা শিক্ষার মান কমায় অভিভাবক বেসরকারি বিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন। শুধু ভবন অন্য কাজে দেওয়া হলে শেষ কারণগুলির জবাব মিলবে না।

একটি সরকারি স্কুলে বর্তমানে ছাত্র নেই মানেই ভবিষ্যতেও থাকবে না। নতুন বসতি, আবাসন প্রকল্প বা পরিযায়ী পরিবারের আগমনে চাহিদা ফিরতে পারে। তাই ভবন স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের আগে পাঁচ থেকে দশ বছরের স্থানীয় জনসংখ্যা ও ভর্তি-প্রবণতা বিচার করা প্রয়োজন।

ছাত্রশূন্য স্কুল চালু দেখিয়ে শিক্ষক ও সম্পদ আটকে রাখা অপচয়। কিন্তু শুধুমাত্র সংখ্যা কম বলে স্কুল বন্ধ করলে দূরের গ্রামের শিশু, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও ছোট ভাষাগোষ্ঠীর শিক্ষার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সিদ্ধান্তে প্রতি শিশুর যাতায়াতের সময় ও নিরাপত্তা ধরতে হবে।

রাজ্যের উচিত স্কুলভিত্তিক ছাত্র, শিক্ষক, শেষ ভর্তি, ভবনের অবস্থা ও প্রস্তাবিত ব্যবহার প্রকাশ করা। স্থানীয় অভিভাবক ও পঞ্চায়েতের শুনানি ছাড়া ভবন সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। খালি ভবন উদ্ধার জরুরি; তার চেয়েও জরুরি বোঝা—কোনও পরিবার কেন সেই স্কুলে সন্তান পাঠাতে চায়নি।