একুশ ছবিতে এক নারী পরিচালক, তবু তাঁর হাতেই ভেনিসের সোনার সিংহ

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: ডেনমার্কের মে এল-তুখি পরিচালিত ‘ওম্যান আননোন’ ১২ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার সোনার সিংহ জিতেছে।
- মূল প্রতিযোগিতার ২১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এল-তুখিই ছিলেন একমাত্র নারী পরিচালক।
- উৎসবের ইতিহাসে তিনি অষ্টম নারী যিনি এই পুরস্কার পেলেন—জয়টি তাই একদিকে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি, অন্যদিকে নির্বাচনে লিঙ্গবৈষম্যের প্রশ্ন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: ডেনমার্কের মে এল-তুখি পরিচালিত ‘ওম্যান আননোন’ ১২ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার সোনার সিংহ জিতেছে। মূল প্রতিযোগিতার ২১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এল-তুখিই ছিলেন একমাত্র নারী পরিচালক। উৎসবের ইতিহাসে তিনি অষ্টম নারী যিনি এই পুরস্কার পেলেন—জয়টি তাই একদিকে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি, অন্যদিকে নির্বাচনে লিঙ্গবৈষম্যের প্রশ্ন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের সময়কে কেন্দ্র করে ছবিটি নির্মিত। প্রধান চরিত্র এক গৃহকর্মী ও শিশুপালনকারী নারী, যাঁর যুদ্ধকালীন এক জার্মান সৈনিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে অভিজাত পরিবারে প্রবেশের সুযোগ এলে তাঁর গোপন অতীত, সামাজিক শ্রেণি ও নতুন পরিচয় পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে আসে।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা ম্যাথিল্ডে আর্সেল সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। এটি তাঁর প্রথম প্রধান চলচ্চিত্র-ভূমিকা। একই ছবির সর্বোচ্চ পুরস্কার ও অভিনয়-স্বীকৃতি বিচারকদের কাছে চরিত্রনির্ভর কাহিনিটির গুরুত্ব দেখায়। তবে পুরস্কারের ফলকে সর্বসম্মত নান্দনিক রায় হিসেবে পড়া যাবে না; উৎসবের বিচার সব সময় নির্দিষ্ট বছরের নির্দিষ্ট জুরির সিদ্ধান্ত।
জন মালকোভিচ ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’-এর জন্য সেরা অভিনেতা এবং লি চ্যাং-ডং ‘পসিবল লাভ’-এর জন্য রৌপ্য সিংহ পেয়েছেন। শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছোট ভাষা ও ইতিহাসনির্ভর ডেনিশ ছবির জয় তার ভবিষ্যৎ পরিবেশনা ও পুরস্কার-প্রচারে বড় সুবিধা দেবে।
তবু মূল তালিকায় একমাত্র নারী থাকার বিষয়টি জয় দিয়ে মুছে যায় না। উৎসব কর্তৃপক্ষ বলতে পারে, চলচ্চিত্রের মান দেখে নির্বাচন হয়েছে; কিন্তু জমা দেওয়া প্রকল্প, অর্থায়ন, নির্মাণের সুযোগ এবং পরিবেশকের সমর্থন আগের স্তরেই অসম হলে শেষ তালিকায় “মান”-এর প্রতিযোগিতাও সমান জায়গা থেকে শুরু হয় না।
নারী পরিচালক পুরস্কার জিতলেই শিল্পের কাঠামো বদলে যায় না। পরবর্তী ছবির অর্থ, আন্তর্জাতিক বিক্রি, প্রযুক্তিগত বিভাগে নারী নিয়োগ এবং উৎসবের ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পরিবর্তন ঘটছে কি না দেখতে হবে। ব্যতিক্রমী বিজয় কখনও কখনও প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে প্রচারের সুযোগ দেয়, যদিও সংখ্যার সামগ্রিক ছবি বিপরীত।
ছবিটির কাহিনিও পরিচয় মুছে ফেলা নিয়ে। যুদ্ধের পরে নতুন সামাজিক অবস্থানে যেতে চাওয়া নারীকে তার পুরনো সম্পর্ক ও শ্রমজীবী পরিচয় অনুসরণ করে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে বৃহত্তর ইতিহাসের দায় যুক্ত হওয়ায় ‘ওম্যান আননোন’ নামটি ব্যক্তিকে অদৃশ্য করে দেওয়া সমাজের ইঙ্গিতও বহন করে।
বিশ্লেষণ: এল-তুখির জয়কে দুটি সত্যসহ দেখা প্রয়োজন। তিনি প্রতিযোগিতার সেরা ছবি নির্মাণ করেছেন বলে জুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে; একই সঙ্গে একুশ জনে মাত্র একজন নারী থাকা উৎসবের দুর্বলতা। দ্বিতীয় সত্য বললে প্রথমটির কৃতিত্ব কমে না।
এখন ছবিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ পুরস্কার-উৎসবের সীমা পেরিয়ে সাধারণ দর্শকের কাছে পৌঁছনো। পরিবেশক না-পেলে সোনার সিংহও সীমিত প্রদর্শনীর স্মারক হয়ে থাকতে পারে। উৎসবের প্রতিনিধিত্ব মাপার আরও ভালো পদ্ধতি হবে—কত নারী নির্বাচিত হলেন, তাঁদের ছবি কত দেশে মুক্তি পেল এবং পরবর্তী কাজের অর্থায়নে পুরস্কার বাস্তব পরিবর্তন আনল কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



